ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

রাজউকের আইটি দুর্বলতায় ক্ষতির মুখে ইস্টার্ন হাউজিং

২০২৫ আগস্ট ৩০ ০৬:৫৮:০৪
রাজউকের আইটি দুর্বলতায় ক্ষতির মুখে ইস্টার্ন হাউজিং

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনলাইন সফটওয়্যার জটিলতায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আবাসন খাতের শীর্ষ কোম্পানি ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড (ইএইচএল)। প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক খরচ বাড়ছে এবং প্রত্যাশিত মুনাফা হ্রাসের ঝুঁকিতে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রায় সাত মাস আগে আফতাবনগরে ৩১.৩ শতাংশ জমির ওপর নতুন প্রকল্পের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে ইএইচএল। কিন্তু অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রাজউক চলতি বছরের মে মাসে জানায়, তাদের সফটওয়্যার হ্যাক হয়েছে এবং কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। একইভাবে হাতিরঝিলে ৫৯.৪৭ শতাংশ জমির ওপর আরেকটি প্রকল্পও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ইএইচএল-এর অ্যাপার্টমেন্ট বিভাগের প্রধান এ কে এম শাহাদাত এ. মাজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “রাজউকের ধীরগতির অনলাইন ব্যবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ না করে বসে থাকায় নির্মাণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং মুনাফা কমে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কোম্পানিটি ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করে ফেলেছে ও নির্মাণ পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দেনা ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। নকশা অনুমোদনের জন্য রাজউকের কমিটি তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো বৈঠক করেনি।

রাজউকের সার্ভার হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটে ১৯ মে। এর পর থেকে ডেভেলপাররা অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারছিল না। যদিও সম্প্রতি সার্ভার চালু করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা এখনও নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন। বর্তমানে একটি ফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কেবল একটি আবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছে এবং প্রতিবারই ওটিপি প্রয়োজন হচ্ছে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।

অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ছাড়া রাজউকের এই অনলাইন সেবার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। নইলে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো ক্রমেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে এবং ব্যাংক ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোতে দেনার বোঝা বাড়বে।

উল্লেখ্য, রাজউকের সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল ডোহাটেক নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান, যার চুক্তি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। এরপর নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়নি, আবার রাজউকের নিজস্ব কোনো আইটি দলও নেই। ফলে সার্ভার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে।

এই ফাঁকেই ১৯ মে সার্ভার বন্ধ থাকার সময় একটি অসাধু চক্র মিরপুরে ১৫ তলা ভবনের অনুমোদন আদায় করে। রাজউক পরে জানায়, সফটওয়্যার হ্যাক হয়েছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট দল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে অনুমোদন নেয়।

অতীতে ভালো পারফরম্যান্স দেখালেও এই সমস্যায় আর্থিক চাপ বাড়ছে ইএইচএলের ওপর। ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা মুনাফা করে। ২০২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে পরের বছর মুনাফা কমে ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় নেমে আসে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১৯ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আগের বছর ২০২৩ সালে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ২৫ শতাংশ।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে