ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

ডিবি হারুন ছাড়াও ছিল তৌহিদ আফ্রিদির আরেক গডফাদার

২০২৫ আগস্ট ২৯ ০৮:৫২:০৩
ডিবি হারুন ছাড়াও ছিল তৌহিদ আফ্রিদির আরেক গডফাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সোশ্যাল মিডিয়ার বহুল পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি, যিনি নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন ‘গুড বয়’ বা সমাজসেবী যুবক হিসেবে, বাস্তবে ছিলেন এক ভয়ঙ্কর অপরাধ চক্রের মূল হোতা। ‘গিভ অ্যান্ড টেক সিন্ডিকেট’ নামে একটি শক্তিশালী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ক্ষমতার ছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধ সাম্রাজ্য

তৌহিদ আফ্রিদি তার পিতা নাসিরউদ্দিন সাথীর মালিকানাধীন মাইটিভি এবং রাজনীতিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে একপ্রকার অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তার নিকট সহযোগী ছিলেন প্রাক্তন ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল—যাদের ছত্রছায়ায় তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অবাধে পরিচালিত হতো।

নারী পাচার, প্রতারণা ও শোষণ

তদন্তে জানা গেছে, আফ্রিদি প্রায় ৫০ জন তরুণীকে ফাঁদে ফেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করেন। বিয়ে বা ক্যারিয়ারের প্রলোভনে তারা তার জালে পা দেন, পরে তাদের সঙ্গে প্রতারণা, মানসিক নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়ন চালানো হতো। এছাড়াও, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য সুন্দরী নারী সরবরাহ করতেন, যার বিনিময়ে তিনি আর্থিক সুবিধা ও প্রভাব বিস্তার করতেন।

মাদক কারবারে সরাসরি সম্পৃক্ততা

আফ্রিদির অপরাধ জগৎ কেবল নারী শোষণেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি মাদক ব্যবসায়ও সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং হারুন ও কামালের আশ্রয়ে ঝুঁকিমুক্তভাবে এই কারবার চালিয়ে যান। এমনকি ডিবি অফিসকে ব্যক্তিগত টর্চার সেলে পরিণত করে যাকে খুশি সেখান থেকে তলব করে নির্যাতন চালানো হতো। একইসঙ্গে, তার বাবা নাসিরউদ্দিনের জমি ও ফ্ল্যাট দখলের কর্মকাণ্ডেও এই সিন্ডিকেটের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছিল।

ক্ষমতাধর পৃষ্ঠপোষকদের মুখোশ খুলছে

বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও তার পরিবারের শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘুষ হিসেবে ট্রাকে ট্রাকে টাকা গ্রহণ করতেন। তার ছায়ায় আশ্রিত থেকেই আফ্রিদির মতো অপরাধীরা দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপরাধ চালিয়ে যেতে পেরেছে।

মুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ও আরও অপরাধ

মুনিয়া নামের এক তরুণীর সাথে আফ্রিদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াতের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া চাঁদাবাজি, জমি দখল, ফ্ল্যাট দখল, চাকরি বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারের মতো জটিল অপরাধেও তার সম্পৃক্ততা ধরা পড়েছে। এসব অপরাধের মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এখন তদন্তের আওতায়।

ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উন্মোচিত রহস্য

তৌহিদ আফ্রিদির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক সিআইডি’র ফরেনসিক বিভাগে বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ডিভাইসগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে পুরো অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল রহস্য। ভুক্তভোগী নারীরা একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করায় মামলাটি নতুন মোড় নিচ্ছে।

এক সময়ের ‘হিরো’, এখন আতঙ্কের নাম

গ্রেফতারের পর থেকেই তৌহিদ আফ্রিদির প্রতাপ ও প্রভাবের দুর্গে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। যিনি এক সময় দেশের লাখো তরুণের ‘রোল মডেল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তার নামই জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তার জীবনের এই নাটকীয় উত্থান-পতন বাংলাদেশের সমসাময়িক অপরাধ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে