ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও দুই উপদেষ্টার করুণ মৃত্যু কামনা

২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:৩০:১২
প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও দুই উপদেষ্টার করুণ মৃত্যু কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি সাম্প্রতিক টক শোতে বাংলাদেশে শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডাকসু নির্বাচন, নেতৃত্বের মান এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি কথা বলেন জনপ্রিয় সমাজ সচেতন ব্যক্তিত্ব ও ডাকসু ভিপি প্রার্থী শেফ তাসনিম আফরোজ ইমি। আলোচনায় সঞ্চালকের নানা প্রশ্নে তিনি অকপটে মত প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

সঞ্চালক উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভিপি প্রার্থী জালালের বিরুদ্ধে মানসিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং পুলিশের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও দুই উপদেষ্টার "করুণ মৃত্যু কামনার" বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ইমি এই বক্তব্য ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও দুই উপদেষ্টার করুণ মৃত্যু বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন, মব লিঞ্চিংকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, নারীদের প্রতি সহিংসতায় নীরব থেকেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন—তাঁদের যেন ইতিহাস ক্ষমা না করে এবং তারা সম্মানজনক মৃত্যু না পান।

ইমি অভিযোগ করেন, দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সুরক্ষায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তার মতে, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় প্রাধান্য রাজনীতিকেন্দ্রিক, জনকল্যাণকেন্দ্রিক নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডাকসু হলো রাজনৈতিক চর্চার স্থান—কিন্তু এটি দলীয় রাজনীতি নয়। এটি ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, তিনি কোনো দলের পদে নেই এবং ক্যাম্পাসে "বি-রাজনীতি" বা রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে। বরং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পক্ষে।

ইমি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেন, শামসুননাহার হলের আইডি কার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় এখন তা বন্ধ, ফলে অনিরাপত্তা বেড়েছে।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সম্পদের ভেতর থেকেই শিক্ষার মান উন্নয়ন, খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি ও নারী আবাসনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল—ডাকসু নির্বাচনকে "স্ক্যাম" বলা হচ্ছে, তাহলে কেন জনগণ ইমিকে ভোট দেবে?

ইমি জবাবে বলেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ অধিকারকর্মী, যিনি ১০ বছর ধরে মানবাধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। শিক্ষার্থীরা জানেন, তিনি কথা নয়, দাবি আদায়ে কাজ করতে জানেন।

ইমির মতে, “রাজনীতি থেকে দূরে থেকে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে, কারণ রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে কেউ সমস্যার সমাধান করতে পারে না।”

শেফ তাসনিম আফরোজ ইমি তার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, নেতৃত্বের জন্য শুধু জনপ্রিয়তা নয়, প্রজ্ঞা, পরিকল্পনা ও জনগণের পাশে থাকার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ডাকসুকে শুধুই একটি ছাত্রসংগঠন হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে