ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

ডাকসু নির্বাচনে ৬ দফাসহ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন পিনাকি

২০২৫ আগস্ট ২৯ ০৯:০৭:৩৯
ডাকসু নির্বাচনে ৬ দফাসহ ভবিষ্যদ্বাণী করলেন পিনাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশ্লেষক ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত বক্তা পিনাকি ভট্টাচার্য্য। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্যানেলগুলোর ইশতেহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গভীরতর সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পিনাকি ভট্টাচার্য্য ডাকসু নির্বাচনকে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, নির্বাচন যদি তুলনামূলক সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে একটি ইসলামপন্থী সংগঠন বিজয়ী হতে পারে। তিনি পূর্বে করা তার একটি ভবিষ্যদ্বাণী পুনর্ব্যক্ত করেন—ছাত্রশিবির বিপুলভাবে বিজয়ী হবে। এমন ফলাফল ভারত ও পশ্চিমা শক্তির জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে রয়েছে: কার্জন হল, মোতাহার হোসেন ভবন, মোকাররম ভবন ও ক্যানটিন সংস্কার; বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ল্যাব ও ক্লাস সংকট নিরসন; শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং গবেষণায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি।

ছাত্রশিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের প্যানেলে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে আবাসন সংকট। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ, ডে কেয়ার সেন্টার, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যানটিন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে।

পিনাকি ভট্টাচার্য্য কিছু দাবিকে বাস্তবতাবর্জিত বলে সমালোচনা করেন। যেমন, রাতের জরুরি চিকিৎসার জন্য নারী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগের প্রস্তাবকে তিনি অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। তার যুক্তি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্বোচ্চ হাসপাতালগুলোর সংলগ্ন, তাই এই সেবার জন্য নতুন অবকাঠামো গড়া যুক্তিসংগত নয়।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক হাসপাতাল ওয়ার্ড, উন্নত খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে, তিনি ‘শতভাগ আবাসন’ দাবিকে অবাস্তব বলে অভিহিত করেন এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য টাউনশিপ ও গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।

পিনাকি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকট হলো শিক্ষার মান এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি। তার অভিযোগ—অনেক শিক্ষক ক্লাসে উপস্থিত হন না, গবেষণার নামে অনিয়ম করেন, এবং দলীয় কোটা ব্যবহার করে অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পান। তিনি গবেষণায় জালিয়াতির একাধিক উদাহরণও তুলে ধরেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্কৃতির দুর্বলতা তুলে ধরে।

পিনাকি ভট্টাচার্য্য একাধিক স্তরে একটি বিকল্প ইশতেহার তুলে ধরেন, যা তার মতে ডাকসুকে আবার জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত করতে পারে। তার প্রস্তাবনাগুলোর সারসংক্ষেপ:

১. ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মসূচি

দলীয় প্রভাবমুক্ত ক্যাম্পাস গঠন

অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অপসারণ

গেস্টরুম নির্যাতন ও সহিংস রাজনীতিতে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা

২. শিক্ষা ও শিক্ষক নিয়োগ সংস্কার

সেমিস্টার শেষে ছাত্রদের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়ন

ক্লাস না নিলে ব্যবস্থা

অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম সফটওয়্যার চালু

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ

৩. গবেষণা তহবিল ও নৈতিকতা

গবেষণা ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে পাবলিক রিপোর্ট

শিল্প-বাণিজ্য সংযোগ ও ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক

"ঢাবি ইনোভেশন ট্রাস্ট" গঠন এবং এথিক্যাল রিভিউ বোর্ড চালু

৪. শিক্ষার্থী কল্যাণ

পৃথক হোস্টেল নয়, বরং জাতীয় স্টুডেন্ট টাউনশিপ গড়ে তোলা

ঢাকা মেডিকেল, বারডেম, পিজি’র সাথে অংশীদারিতে স্টুডেন্ট ওয়ার্ড

৫. স্বচ্ছতা ও বাজেট

ডিজিটাল ডাকসু গঠন

পার্টিসিপেটরি বাজেটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বাজেট নির্ধারণ

৬. যুব কর্মসংস্থান

সরকারি-বেসরকারি খাতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম

পিনাকি ভট্টাচার্য্য মনে করেন, তার প্রস্তাবিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করলে ডাকসু একটি কার্যকর, আধুনিক এবং গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থীবান্ধব প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে। তার মতে, ডাকসুকে ফের জাতীয় নেতৃত্বের কারখানায় রূপ দিতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং সংস্কারমুখী নেতৃত্ব।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদমুক্ত করো, শিক্ষার স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনো!"—এই স্লোগানেই ডাকসুর নতুন অভিযাত্রা শুরু হওয়া উচিত।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে