ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে প্রিসিলার ইসলামিক জবাব

২০২৫ আগস্ট ২৯ ১১:৪৮:০৬
রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে প্রিসিলার ইসলামিক জবাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং নিউইয়র্কপ্রবাসী বাংলাদেশি সমাজকর্মী ফাতেমা নাজনিম প্রিসিলা-র মধ্যে সম্প্রতি এক উত্তপ্ত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ফেসবুক পোস্ট এবং পূর্বাচল প্লট বিতর্ক। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং দ্বিচারিতার প্রশ্ন ঘিরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিতর্কের সূচনা: ফেসবুক পোস্টের ব্যাখ্যা

রুমিন ফারহানা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক টাইমলাইনে পবিত্র সূরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াত পোস্ট করেন:

"আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।"

এই আয়াতের মাধ্যমে রাজনৈতিক নীতিহীনতা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সমালোচনা করার ইঙ্গিত ছিল বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটি ছিল আত্মপক্ষসমর্থনের একটি প্রচেষ্টা, বিশেষ করে সরকারের কাছ থেকে প্লট চাওয়ার বিতর্কের মধ্যে।

প্রিসিলার জবাব: কুরআন ও হাদিসে আত্মসমালোচনা

ফাতেমা নাজনিম প্রিসিলা, যিনি একজন ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতা ভিত্তিক প্রবাসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত, ওই পোস্টের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে রুমিন ফারহানাকে "আপা" সম্বোধন করে চারটি কুরআনের আয়াত এবং তিনটি সহিহ হাদিস উল্লেখ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তার মূল বার্তাগুলো ছিল:

কুরআনের আয়াতসমূহ:

সূরা হুজুরাত (৪৯:১১): উপহাস ও হেয় করার বিরুদ্ধে।

সূরা লুকমান (৩১:১৮): অহংকার ও দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে।

সূরা নিসা (৪:৩৬): বিনয় ও সদ্ব্যবহারের আহ্বান।

সূরা ইসরা (১৭:৩৭): নিজেকে বড় ভাবার ও উদ্ধত আচরণের নিষেধ।

হাদিসসমূহ:

সহিহ মুসলিম ৯১: অহংকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

সহিহ মুসলিম ২৫৬৪: মুসলিম মুসলিমকে হেয় করতে পারে না।

তিরমিজি ২৪৯২: অহংকারী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পিঁপড়ার মতো হাশর হবে।

প্রিসিলা বলেন, এসব আয়াত ও হাদিস রুমিন ফারহানার আচরণ ও বক্তব্যের আত্মসমালোচনার জন্য যথাযথ আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে তার অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনার পরেও একটি সরকারি প্লট চাওয়া এবং পরে সেই দাবি প্রত্যাহার করার ঘটনাকে ঘিরে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা রাজধানীর পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট চেয়ে সরকারকে আবেদন করেছিলেন। তবে এই বিষয়টি জানাজানি হলে তা তার নিজ দলের নীতিবাক্য এবং তার অতীত বক্তৃতার পরিপন্থী হিসেবে ধরা হয়। ব্যাপক জনসমালোচনার মুখে পড়ে তিনি পরে আবেদন "নৈতিক কারণে" প্রত্যাহার করে নেন। সমালোচকরা একে "রাজনৈতিক দ্বিচারিতা" হিসেবে দেখেন।

প্রিসিলা তার প্রতিক্রিয়ায় মূলত ইসলামের বিনয়, আত্মসমালোচনা এবং মানবিক আচরণের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের একটি বড় দিক হলো— "বক্তৃতা আর বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান থাকলে ইসলামিক নীতির আলোকে আত্মপর্যালোচনাই শ্রেয়।"

এই বিতর্ক রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় চেতনার একটি দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে, যেখানে সামাজিক মাধ্যমে একজন রাজনৈতিক নেত্রীর কোরআন উদ্ধৃতি ও অন্যজনের হাদিস-ভিত্তিক জবাব "ধর্মের ব্যবহার বনাম ধর্মের অনুশীলন" প্রশ্নটিকে সামনে আনে।

একদিকে রুমিন ফারহানা একজন শিক্ষিত, সাহসী ও যুক্তিনির্ভর রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে প্রিসিলা একজন প্রবাসী মুসলিম নারী, যিনি নিজ বিশ্বাস ও মূল্যবোধ থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন—তাদের এই বিতর্কটি শুধুই ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজে নেতৃত্ব, দ্বিচারিতা, এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রয়োগ নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে