ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে জানালেন আবহাওয়াবিদরা

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১১:২২:০৭
কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে জানালেন আবহাওয়াবিদরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। কয়েকটি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এমন পরিস্থিতিতে দিনের বড় একটি অংশজুড়েই সূর্যের দেখা মিলছে না। এর প্রধান কারণ ধূসর রঙের ঘন কুয়াশা। শীত মৌসুমে কুয়াশার এই চাদর যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে কুয়াশা আসলে কী, কীভাবে এবং কেন তৈরি হয়? আর শীতকালেই কেন কুয়াশার প্রকোপ বেশি দেখা যায়—এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায় অনেকের মনে। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা থেকে জানা গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

কুয়াশা কীভাবে সৃষ্টি হয়?

আবহাওয়াবিদদের মতে, কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি তৈরি হওয়া এক ধরনের নিচু মেঘ বা ‘লো ক্লাউড’। বাতাসে থাকা আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কুয়াশা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় মাটির কাছাকাছি থাকা জলীয় বাষ্প সহজেই ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় রূপ নেয়। এসব জলকণা বাতাসে ভেসে থাকলেই কুয়াশার সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ যে তাপমাত্রা ধারণ করে, রাতে তা দ্রুত বেরিয়ে যায়। কোনো কারণে যদি ভূপৃষ্ঠ উপরের স্তরের তুলনায় দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়, তখন কুয়াশা তৈরি হয়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে অনেক সময় দিল্লি, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ অঞ্চল থেকে ‘অ্যাডভেকশন ফগ’ বা বহমান কুয়াশাও প্রবেশ করে।

কুয়াশা, মিস্ট ও স্মগ—একই নয়

অনেকেই কুয়াশা, মিস্ট ও স্মগকে এক করে দেখেন। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তিনটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাসে থাকা আর্দ্রতা ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হলে এবং দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের কমে নেমে এলে সেটিকে কুয়াশা বলা হয়। একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হলেও তুলনামূলক কম ঘন হলে এবং দৃশ্যমানতা এক কিলোমিটারের বেশি থাকলে সেটিকে মিস্ট বলা হয়।

অন্যদিকে স্মগ তৈরি হয় ধোঁয়া ও কুয়াশার সংমিশ্রণে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বাতাসে জমে কুয়াশার সঙ্গে মিশে গেলে স্মগের সৃষ্টি হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। কুয়াশা ও মিস্ট প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত হলেও স্মগ মূলত মানবসৃষ্ট বায়ুদূষণের ফল।

কুয়াশা কি ঠান্ডা বাড়ায়?

আবহাওয়াবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ঘন কুয়াশাই শীতের তীব্র অনুভূতির অন্যতম কারণ। কুয়াশা সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে মাটি গরম হতে পারে না এবং দিনের তাপমাত্রা কম থাকে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যও কমে যায়, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

কুয়াশা কীভাবে কাটে?

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদের মতে, কুয়াশা কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে পশ্চিমা লঘুচাপ বা ‘ওয়েস্টার্লি ডিসটার্বেন্স’। এটি পশ্চিম দিক থেকে আসা এক ধরনের আবহাওয়াগত অস্থিরতা, যা শীতকালে ঠান্ডা বাতাস, মেঘ, বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে আসে। এই লঘুচাপ সক্রিয় হলে বাতাসের গতি বাড়ে এবং কুয়াশা সরে যায়।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকও জানান, কুয়াশা কেটে গেলে ঠান্ডার অনুভূতিও কমে আসে। কুয়াশা কাটার প্রধান উপায় হলো বৃষ্টি হওয়া ও বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়া। বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়া এবং স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব থাকলে বাতাসের গতি বাড়ে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণত প্রতি ১২ থেকে ১৫ দিন পরপর পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় হয়। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পশ্চিমা লঘুচাপ না আসায় বাতাসে জমে থাকা আর্দ্রতা সরে যেতে পারেনি। ফলে কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে