ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এক দলে কোটিপতি আর ‘শূন্য আয়’ প্রার্থী— হলফনামায় চমকপ্রদ তথ্য

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৬:১০:০৫
এক দলে কোটিপতি আর ‘শূন্য আয়’ প্রার্থী— হলফনামায় চমকপ্রদ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আটটিতে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আট প্রার্থীর আয় ও সম্পদের মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। কারও সম্পদ কোটি টাকার ঘরে, আবার একজন প্রার্থী হলফনামায় কোনো আয়ই দেখাননি।

বার্ষিক আয় ও মোট সম্পদের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। অপরদিকে, হলফনামায় কোনো আয় না দেখিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী এস এম শাহরিয়া।

দুই কোটিপতি প্রার্থী

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে দুজন কোটিপতি। তাঁরা হলেন নাবিলা তাসনিদ এবং ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী তারেক আহম্মেদ আদেল।

নাবিলা তাসনিদের বার্ষিক আয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তাঁর এবং তাঁর স্বামীর নামে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে তারেক আহ্মেদ আদেলের বার্ষিক আয় ৪০ লাখ টাকার বেশি এবং মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, আদেল এর আগে জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা ছিলেন। গত ১০ ডিসেম্বর এনসিপির আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তাঁর এনসিপিতে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

আয়ের শীর্ষে তারেক আদেল

বার্ষিক আয়ের হিসাবে এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন তারেক আহ্মেদ আদেল। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ১৪৮ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়া বাবদ আসে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নামে নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমাসহ রয়েছে দেড় কোটির বেশি টাকা। সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা কর দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করেছেন।

বার্ষিক আয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন নাবিলা তাসনিদ। তাঁর ঘোষিত আয় ৪০ লাখ ৫ হাজার ১৭৫ টাকা, যার বড় অংশ আসে চাকরি থেকে। সম্পদের দিক থেকে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর কাছে ৪০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেড় কোটির বেশি। এ ছাড়া তাঁর ও স্বামীর নামে কয়েক কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার বড় অংশ কৃষিজমি।

মধ্যম ও নিম্ন আয়ের প্রার্থীরা

সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা হলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। তাঁদের কোনো স্থাবর সম্পদ বা ঋণ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।এ ছাড়া জাবেদ রাসিনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা, আরিফুল ইসলামের আয় ৬ লাখ টাকা।

আয়হীন প্রার্থী এস এম শাহরিয়া

ঢাকায় এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম অবস্থানে রয়েছেন এস এম শাহরিয়া। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তিনি হলফনামায় কোনো আয় দেখাননি। তবে সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে তিনি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় এবং ৫ হাজার টাকা কর দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, শাহরিয়ার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, যার পুরোটাই নগদ অর্থ। তাঁর কোনো গাড়ি, ইলেকট্রনিক পণ্য বা স্থাবর সম্পদ নেই। তবে আয়কর রিটার্নে তিনি ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৫১৯ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন।

পেশা, শিক্ষা ও বয়স

পেশাগত দিক থেকে আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যরা আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মার্কেটিং কনসালট্যান্ট ও পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।নারী প্রার্থী রয়েছেন দুজন—নাবিলা তাসনিদ ও দিলশানা পারুল। দিলশানা পারুলের আয় পুরোপুরি বিদেশ থেকে আসে; তাঁর বার্ষিক আয় ২২ লাখ টাকা।

শিক্ষাগত যোগ্যতার হিসাবে চারজন স্নাতকোত্তর, তিনজন স্নাতক এবং একজন এসএসসি পাস। বয়সের দিক থেকে ছয়জনের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, একজন চল্লিশোর্ধ্ব এবং একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

প্রসঙ্গত, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। এই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ দিনে এনসিপির অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে