ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এবার ট্রাম্পের নজরে যে ৫ দেশ ও অঞ্চল

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৯:১১:০১
এবার ট্রাম্পের নজরে যে ৫ দেশ ও অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তার পররাষ্ট্রনীতির আক্রমণাত্মক ও আধিপত্যবাদী সুর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন, হুমকি কেবল কথায় সীমাবদ্ধ নয়।

ট্রাম্প এই অভিযানের ব্যাখ্যায় ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের কথা উল্লেখ করে পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের নতুন নীতিকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে—এরপর কোন দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে পড়তে পারে।

১. গ্রিনল্যান্ড

আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল এই দ্বীপ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটির (পিটুফিক স্পেস বেস) অবস্থানস্থল। ট্রাম্প বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ পুরো গ্রিনল্যান্ড তার প্রয়োজন। বিরল খনিজ ও ভবিষ্যৎ নৌপথের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেও উত্তেজনা কমেনি।

২. কলম্বিয়া

ভেনেজুয়েলার অভিযানের পর কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। তেল, খনিজ সম্পদ এবং মাদকপাচারের জন্য পরিচিত দেশটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প কলম্বিয়াকে ‘কোকেন উৎপাদনের কেন্দ্র’ আখ্যা দিয়ে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

৩. ইরান

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইরান সবসময় ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু। বিক্ষোভ দমন হলে কঠোর জবাবের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত ও গোপন বৈঠকগুলো ইরান ইস্যুকে আরও স্পর্শকাতর করেছে।

৪. মেক্সিকো

মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প মেক্সিকোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। সীমান্ত দেয়াল থেকে শুরু করে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা—সবই তার বক্তব্যে ঘুরে ফিরে এসেছে, যদিও মেক্সিকো সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

৫. কিউবা

ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্পের সুর কিছুটা ভিন্ন। তার ভাষায় দেশটি ‘পতনের মুখে’, তাই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের দরকার নেই। তবে মার্কো রুবিওর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, হাভানার জন্য উদ্বেগ এখনও ফুরায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনাই দেখিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত এবং শক্তি প্রয়োগ আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নতুন বাস্তবতা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে