ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

হত্যার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল ডিবি

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:৪২:৩৮
হত্যার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাল ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক ও তীব্র সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন।

ডিবি প্রধান আরও জানান, হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও অপর আসামি আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। তিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে—নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিন রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে