ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সংকেতে শেয়ারবাজারে আতঙ্কিত বিক্রয়চাপ

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২৩:৫৫:৫০
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সংকেতে শেয়ারবাজারে আতঙ্কিত বিক্রয়চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের ৯টি দুর্বল কোম্পানিকে ‘নন-ভিয়েবল’ বা অচল ঘোষণা করার আভাস দেওয়ায় বাজারে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) লেনদেনের শুরু থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে, যার ফলে আর্থিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর সর্বনিম্ন সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) নেমে যায়। বিনিয়োগকারীদের মাঝে ভয় কাজ করছে যে, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মতো এখানেও তাদের মূলধন শূন্য হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অচল বা ‘নন-ভিয়েবল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস (ফাস) ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স। গভর্নরের এই বক্তব্যের পরই বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করলেও বাজারে ক্রেতা না থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী আটকা পড়ে যায়।

তথ্য অনুযায়ী, অচল হতে যাওয়া কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং এর খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের লোকসান ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১০০ শতাংশে ঠেকেছে। বছরের পর বছর দুর্বল সুশাসন ও লুটপাটের কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন পুরোপুরি ক্ষয়ে গেছে।

সম্প্রতি পাঁচটি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের সময় শেয়ারহোল্ডারদের ফেসভ্যালু শূন্য করে দেওয়া হয়েছিল। এনবিএফআই খাতের বিনিয়োগকারীরা এখন একই পরিণতির আশঙ্কা করছেন। গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, পবিত্র রমজানের মধ্যে সাধারণ আমানতকারীদের মূল টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, 'ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যে সব প্রতিষ্ঠান আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে আছে, সেগুলোকে চিরতরে বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমানতকারীদের সুরক্ষা দিলেও শেয়ারহোল্ডারদের দায় নিতে চাচ্ছে না, যা শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করছে। এর প্রেক্ষিতে আর্থিক খাতের নির্ধারিত ৯ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার বিক্রিতে বড় ধরণের চাপ দেখা যায়। এখাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আজ ২০টি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ার দাম কমেছে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে