ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

৭৩ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙলো, আবহাওয়াবিদদের আতঙ্ক

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১০:৫৩:৫৩
৭৩ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড ভাঙলো, আবহাওয়াবিদদের আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : দিন ও রাতে প্রায় একই ধরনের ঘন কুয়াশা এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এই অবস্থা কয়েক দিন ধরেই বিরাজ করছে। দেশের আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৭৩ বছরের আবহাওয়ার রেকর্ডেও এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ আমার দেশ–কে বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ সেদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতিতে শীতের অনুভূতি ছিল নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, এরপর থেকে টানা কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকছে। ফলে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

ড. বজলুর রশিদ আরও বলেন, “আমাদের কাছে থাকা ৭৩ বছরের আবহাওয়ার তথ্যেও এমন পরিস্থিতির কোনো নজির নেই। সব মিলিয়ে বর্তমান আবহাওয়া দেশের জন্য স্পষ্টতই দুর্যোগপূর্ণ।”

তিনি জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে একটানা দুই থেকে তিন দিন ঘন কুয়াশা থাকে, পরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঘন কুয়াশা পড়ছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলো দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেছে। এতে ‘কুলিং ইফেক্ট’ বাড়ছে এবং শীতের অনুভূতিও তীব্র হচ্ছে। ফলে সারাদেশের মানুষ থরথর করে কাঁপছে।

এ আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, গতকাল দেখা গেছে দেশের সর্বদক্ষিণের এলাকা টেকনাফের তুলনায় উত্তরের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা বেশি ছিল, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতির বিপরীত। এ ধরনের উল্টো চিত্রও এবারের শীতের ব্যতিক্রমী দিক।

তার মতে, দিল্লি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ ঘন কুয়াশার বলয় কয়েক দিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের মতো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়নি। গত দুই মাসে কোনো পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় নেই এবং বাতাসের গতিবেগও খুব কম। এসব কারণে দিন ও রাতের ঘন কুয়াশা সহজে কাটছে না। ফলে কবে নাগাদ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমলেও রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে এরপর আবার তা কমতে শুরু করার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে—৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায়—রাজশাহী বিভাগের আট জেলা ছাড়াও কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের পরিধি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগামী দুদিন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এরপর আবার তা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ২০১৮ সালের মতো ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

চলতি মাসে দেশে অন্তত পাঁচ দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক থেকে দুই দফা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে