ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

দুইদিনে ১০৭ কোটি উত্তোলন, সম্মিলিত ব্যাংক নিয়ে যা বলল গভর্নর

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৯:৩০:৩৯
দুইদিনে ১০৭ কোটি উত্তোলন, সম্মিলিত ব্যাংক নিয়ে যা বলল গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য একীভূত হওয়া ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ থেকে গত দুই দিনে আমানতকারীরা ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন আমানতও জমা পড়েছে। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এসব তথ্য জানান। এসময় তিনি আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তাদের গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে গভর্নর জানান, পাঁচটি শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার এবং রবিবার—এই দুই দিনে ১৩,৩১৪ জন আমানতকারী টাকা তুলে নিয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, একই সময়ে ৪৪ কোটি ৯ লাখ টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে। ফলে নিট আউটফ্লোর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, টাকা উত্তোলন হলেও নতুন করে আমানতও আসছে। এটি প্রমাণ করে যে এখানকার অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ। গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই এবং ভবিষ্যতে ভয়ের কোনো কারণ আমি দেখছি না। তিনি আরও যোগ করেন যে, গত দুই দিনে যারা টাকা জমা দিয়েছেন তারা সবাই নতুন গ্রাহক। তারা যেকোনো সময় তাদের টাকা তুলে নিতে পারবেন এবং প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং রেট অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক মুনাফাও পাবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্রিফিংয়ে দেওয়া ব্যাংকভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক থেকে সবচেয়ে বেশি ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো একই সময়ে এই ব্যাংকেই আবার সর্বোচ্চ ২৪.২৬ কোটি টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে। অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫.২৪ কোটি টাকা এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ৩.৪৯ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগৃহীত হয়েছে। এছাড়া তুলনামূলক কম হলেও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৮ লাখ টাকা এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ৬২ লাখ টাকা নতুন আমানত হিসেবে জমা দিয়েছেন গ্রাহকরা।

এসময় গভর্নর ঘোষণা করেন যে, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকেই বিস্তারিত ফরেনসিক অডিট করা হবে। এই অডিটের মাধ্যমে অতীতে কীভাবে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করা হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টাকা কোথায় গেছে এবং কারা জড়িত ছিল তা আমরা বের করব। কোনো কর্মকর্তা বা স্পন্সর-পরিচালক দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনি ব্যবস্থার জন্য প্রমাণাদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে।

গভর্নর জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আপাতত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকলেও এটি বেসরকারি খাতের মডেলে পরিচালিত হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি পে-স্কেল কার্যকর হবে না, বরং পাঁচটি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামোকে একটি একক বেসরকারি ব্যাংকিং কাঠামোর অধীনে আনা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাংকের জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে এই ব্যাংকটিকে লাভজনক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে