ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

সিএস, এসএ, আরএস, বিএস ও নামজারি খতিয়ান চেনার উপায়

২০২৫ আগস্ট ৩০ ১৬:১১:৪৭
সিএস, এসএ, আরএস, বিএস ও নামজারি খতিয়ান চেনার উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় জমির মালিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য খতিয়ান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রায়শই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তবে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য জেনে নিলে সহজেই এসব খতিয়ান শনাক্ত করা সম্ভব।

খতিয়ান হলো মৌজাভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমির মালিকদের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত একটি সরকারি নথি। এতে জমির মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর, শ্রেণি এবং খাজনার পরিমাণ উল্লেখ থাকে। এটি সরকারের কর আদায়ের একটি মাধ্যম এবং জমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন প্রকার খতিয়ান ও চেনার উপায়:

১. সিএস (CS) খতিয়ান (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে):

এটি ভারত উপমহাদেশের প্রথম ভূমি জরিপ (১৮৮৯-১৯৪০ সাল)। মো. আমির হামজা লেমনের মতে, সিএস খতিয়ান চেনার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

এটি সাধারণত লম্বালম্বি (লিগ্যাল সাইজ পেপারে) এবং দুই পৃষ্ঠার হয়, অর্থাৎ এর উভয় পৃষ্ঠায় লেখা থাকে।

প্রথম পৃষ্ঠায় জমিদার এবং প্রজার নামের দুটি ভাগ থাকে।

দ্বিতীয় পাতায় দাগ নম্বর কলামের পর "উত্তর সীমানার দাগের দখলদার" নামে একটি কলাম পাওয়া যায়।

প্রথম পৃষ্ঠার উপরের দিকে 'পরগনা' কলাম উল্লেখ থাকে।

খতিয়ানের নিচে বা উপরের কোণে ১০৫, ১০৬, ১০৮, ১০৮(ক), ১০৯ বা ১১৫(খ) ধারার উল্লেখ থাকতে পারে।

অনেক অঞ্চলে এটি '৪০-নামে' খতিয়ান হিসেবেও পরিচিত।

২. এসএ (SA) খতিয়ান (স্টেট অ্যাকুইজিশন সার্ভে):

দেশভাগের পর ১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর পাকিস্তান সরকার (১৯৫৬-১৯৬২ সাল) এই জরিপ পরিচালনা করে। এটি জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর নতুন মালিকানার ভিত্তিতে তৈরি হয়। এসএ খতিয়ান চেনার উপায়গুলো হলো:

এটি সাধারণত এক পৃষ্ঠার এবং আড়াআড়িভাবে হাতে লেখা থাকে।

এর ডান পাশে উপরে 'সাবেক' খতিয়ান (সিএস রেফারেন্স) নম্বর এবং নিচে 'হাল' নম্বর লেখা থাকে।

এসএ খতিয়ানে সাধারণত 'রেসার্ভে নং' বা 'রে সা নং' লেখা থাকে না।

অনেক অঞ্চলে এটি '৬২-নামে' খতিয়ান হিসেবে পরিচিত।

৩. আরএস (RS) খতিয়ান (রিভিশনাল সার্ভে):

এসএ খতিয়ানের ভুলত্রুটি সংশোধনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর (১৯৬৫ সাল থেকে, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের পর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত) এই জরিপ পরিচালিত হয়। এটি জমির বর্তমান মালিকানা ও হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে। আরএস খতিয়ান চেনার বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

এটি সিএস খতিয়ানের মতোই উভয় পৃষ্ঠা জুড়ে (দুই পৃষ্ঠার) হয় এবং এর কলামগুলো লম্বালম্বিভাবে থাকে।

আরএস রেকর্ডের প্রথম পৃষ্ঠায় মালিকদের নাম এবং অপর পৃষ্ঠায় জমির দাগ নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য থাকে।

খতিয়ানের উপরের ডান পাশে "রেসার্ভে নং" লেখা থাকে।

যদি প্রিন্টেড কপি হয়, তাহলে খতিয়ানের উপরের অংশে 'আরএস খতিয়ান' লেখা থাকতে পারে।

৪. বিএস (BS) খতিয়ান (বাংলাদেশ সার্ভে / সিটি জরিপ):

আরএস জরিপ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে শুরু করে বর্তমানে চলমান এই জরিপকে বিএস খতিয়ান বা সিটি জরিপ বলা হয়। মো. আমির হামজা লেমন ও অন্যান্য তথ্য অনুসারে এর চেনার উপায়গুলো হলো:

এটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার প্রিন্টেড হয়।

বিএস খতিয়ান সাধারণত এক পৃষ্ঠার হয়ে থাকে।

ঢাকা সিটি জরিপের ক্ষেত্রে এর উপরি অংশের ডান পাশে "ঢাকা সিটি জরিপ" লেখা থাকবে এবং প্রিন্টের তারিখ ২০০০ সালের পরে হবে।

এর কলামগুলো সাধারণত আড়াআড়িভাবে সজ্জিত থাকে।

৫. নামজারি খতিয়ান (মিউটেশন খতিয়ান):

জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর (যেমন: ক্রয়, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি ইত্যাদি) রেকর্ড সংশোধনের মাধ্যমে নতুন খতিয়ান খোলার প্রক্রিয়াকে নামজারি বা মিউটেশন বলে। নামজারি খতিয়ান চেনার উপায়গুলো হলো:

নামজারি খতিয়ানে অবশ্যই 'নামজারি কেস নম্বর' এবং 'জোত নম্বর' উল্লেখ থাকবে।

নতুন নামজারি খতিয়ানে সাধারণত একটি QR কোড থাকে, যা স্ক্যান করে এর বৈধতা যাচাই করা যায়।

এতে ইউনিয়ন উপ-ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার/কানুনগো এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সিল ও স্বাক্ষর থাকে।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ থাকলে খতিয়ানের বৈধতা নিশ্চিত হওয়া যায়।

ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এই খতিয়ানগুলো সঠিকভাবে চিনে নেওয়া এবং যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে