ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: ব্রোকারদের জন্য কঠোর শর্তাবলী

২০২৫ আগস্ট ৩০ ১১:২১:৫৪
কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: ব্রোকারদের জন্য কঠোর শর্তাবলী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা পণ্য ডেরিভেটিভস মার্কেট। এই বাজারে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পরীক্ষামূলক লেনদেন (মক ট্রেডিং) শুরু হবে এবং ডিসেম্বর থেকে পুরোপুরি চালু হবে। প্রথম ধাপে সোনা, রুপা ও পাম অয়েল নিয়ে লেনদেন শুরু হবে। এরপর চাল, গমসহ কৃষিপণ্যও পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, বাজার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি, ব্রোকার লাইসেন্স চূড়ান্তকরণ, পণ্য নির্ধারণ ও বিনিয়োগকারী প্রস্তুতির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বিএসইসিতে কমোডিটি পণ্য অনুমোদনের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। মক ট্রেডিং চলাকালে শুধু লেনদেনের অনুশীলন হবে, বাস্তবে কোনো আর্থিক লেনদেন বা পণ্যের ডেলিভারি হবে না।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, কমোডিটি মার্কেট চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং সব প্রক্রিয়া শেষ হলে তা বাস্তবায়ন হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ মে বিএসইসি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কমোডিটি ডেরিভেটিভস প্রবিধানমালা অনুমোদন দেয় এবং এর আগে ২০২৪ সালের ২০ মার্চ CSE কমোডিটি এক্সচেঞ্জের নিবন্ধন পায়। পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জে পণ্য সরাসরি কেনাবেচা হবে না, বরং ফিউচার কন্ট্রাক্ট বা ভবিষ্যৎ চুক্তি কেনাবেচা হবে। পণ্য থাকবে গুদামে, আর বিনিয়োগকারীরা সেই পণ্যের সার্টিফিকেট বা কন্ট্রাক্ট কেনাবেচা করবেন। নির্দিষ্ট সময় শেষে সেটেলমেন্টের সময় মূল পণ্য হস্তান্তর হবে।

বাজারে অংশ নিতে চাইলে ব্রোকারদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। CSE-এর ব্রোকারদের পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে ১০ কোটি টাকা এবং যারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য, তাদের ২০ কোটি টাকা। ব্রোকার আবেদন করতে পারবে দুই লাখ টাকা ফি দিয়ে এবং তালিকাভুক্ত হলে দিতে হবে দুই কোটি টাকা। প্রতিবছর এটি নবায়ন করতে হবে।

বাজার পরিচালনায় গঠন করা হবে কয়েকটি কমিটি, যেমন: অডিট কমিটি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি, মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটি, পণ্য পরামর্শ কমিটি এবং বাজার সচেতনতা কমিটি। প্রয়োজনে আরও কমিটিও গঠন করা যাবে। এসব কমিটির কাজ হবে বাজারে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে বাংলাদেশে পণ্যের বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে