ঢাকা, বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বাসচালক থেকে যেভাবে প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৫:৪৩:৩০
বাসচালক থেকে যেভাবে প্রেসিডেন্ট হন নিকোলাস মাদুরো

নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েক মাস ধরেই ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে। ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ মহড়া, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর যুদ্ধপ্রস্তুতির ঘোষণায় দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নিকোলাস মাদুরোর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল একেবারেই সাধারণ এক পেশা থেকে। কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি ছিলেন একজন বাসচালক। সেই সময় থেকেই তিনি শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে শ্রমিক আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠকে পরিণত হন। দীর্ঘদিন শ্রমিক রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাই তাকে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে মাদুরো দ্রুত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০০৬ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান এবং চাভেজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন।

২০১৩ সালে হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নিকোলাস মাদুরো। একই বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৮ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের একটি বড় অংশ ওই নির্বাচনকে বিতর্কিত বলে আখ্যা দেয় এবং ফলাফল স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করা, বিরোধী দল দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসতে থাকে।

২০১৪ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পতন, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশটিতে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষ কলম্বিয়া, ব্রাজিল ও পেরুসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়—যা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বড় শরণার্থী সংকট হিসেবে বিবেচিত।

২০১৭ সালে মাদুরো জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ঐক্য ও স্থিতিশীলতার নামে এসব পদক্ষেপ মূলত ক্ষমতা আরও সুসংহত করার কৌশল।

মাদুরোর শাসনামলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তার সরকার ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর প্রভাব ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করে তোলে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, কূটনৈতিক হুমকি এবং মাদুরোর পাল্টা অবস্থানের কারণে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে