ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর: বাজারে ফিরবে কি মানসম্মত কোম্পানি?

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৮:০৬:০৬
নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর: বাজারে ফিরবে কি মানসম্মত কোম্পানি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মানসম্মত ও শক্তিশালী কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন আইপিও বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৩০ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’ গেজেটভুক্ত হয় এবং প্রকাশের দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে।

সংশোধিত এই বিধিমালায় নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন থেকে আইপিও আবেদন যাচাই–বাছাই করে প্রাথমিক অনুমোদন দেবে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই বিএসইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাজারে আসতে ইচ্ছুক কোনো কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী মোট শেয়ারের অন্তত ১০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে নির্ধারিত খাতে ব্যয় করতে হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন লোন সংক্রান্ত বিধি সংস্কারের পর আইপিও নীতিমালা সংশোধন ছিল কমিশনের জন্য সবচেয়ে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তাঁর মতে, এই সংস্কার তাৎক্ষণিক প্রভাব না ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বচ্ছতা ও আস্থার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে বাস্তবতা হলো, ভালো কোম্পানি আনার লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে চেষ্টা চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় বহুজাতিক বা সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসেনি। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, একটি মাত্র শক্তিশালী কোম্পানিও বাজারের গতিপথ বদলে দিতে পারে। অতীতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বা গ্রামীণফোনের তালিকাভুক্তির পর বাজারে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল, বর্তমান কমিশনের সময়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৮টি সরকারি কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অসহযোগিতার কারণে প্রক্রিয়াটি এগোয়নি। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বড় কোম্পানির আইপিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। জানা গেছে, একসময় লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,২০০ কোটি টাকার বেশি লোকসানে পড়েছে এবং বর্তমানে ঋণনির্ভর অবস্থায় রয়েছে। তবে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের দুর্বল বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের কারণে লোকসান হলেও ভবিষ্যতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় কোনো আইপিও বাজারে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, সুশাসনের ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ এখনও দুর্বল। ভারত তো দূরের কথা, সুশাসনের সূচকে আমরা পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার চেয়েও পিছিয়ে আছি। এই অবস্থায় মানসম্মত কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ দেখাবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইপিও বিধিমালা কারসাজি ও দুর্বল কোম্পানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করেছে। তবুও বাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এই সংস্কার ছিল সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে