ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

ন্যাশনাল টি’র রাইট ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক

২০২৫ আগস্ট ৩১ ০৭:৩১:১৩
ন্যাশনাল টি’র রাইট ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি)-এর রাইট শেয়ার ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক মামুন রশিদ অবিক্রিত ২ লাখ ৫০ হাজার রাইট শেয়ার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ক্ষোভ এবং বাজারে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এ ঘোষণার পর বিনিয়োগকারী মহল বলছে, রাইট শেয়ারের যোগ্যতা নির্ধারণে রেকর্ড ডেটের নীতি স্পষ্ট। শুধুমাত্র ওই তারিখে যাদের নাম তালিকাভুক্ত থাকে, তারাই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

এক শেয়ারহোল্ডার শেয়ার নিউজকে জানান, এনটিসির শেয়ারের দাম ওইদিন ডিএসইতে ছিল ১৯৫ টাকা। তার অভিযোগ, মামুন রশিদ এই রাইট শেয়ার কিনলে প্রতিটি শেয়ারে প্রায় ৭৫ টাকা তাৎক্ষণিক মুনাফা করতে পারবেন, যা মোটে দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অথচ তিনি রেকর্ড ডেট অনুসারে যোগ্য নন।

বিতর্কের জবাবে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশিদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ২০২২ সালে রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত আবেদন না পাওয়ায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও সাবস্ক্রিপশন শেষ করা যায়নি। তাই বিএসইসি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কয়েকজন পরিচালক অবিক্রিত শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখিয়েছি। আমি কেবল আগ্রহ প্রকাশ করেছি, অনুমোদন না পেলে কিনব না।”

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, “রাইট শেয়ার শুধুমাত্র রেকর্ড ডেটের তালিকাভুক্ত শেয়ারহোল্ডাররা নিতে পারবেন। তবে যদি কোনো পরিচালক তাদের অধিকার ত্যাগ করেন, অন্যরা তা নিতে পারেন—শর্ত থাকে প্রস্তাবপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। এনটিসির ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা যাচাই করা হবে।”

এনটিসির কোম্পানি সচিব এ কে আজাদ চৌধুরী অবশ্য ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন দিয়েছিলেন যে, অবিক্রিত রাইট শেয়ার পরিচালকরা কিনতে পারবেন। রেকর্ড ডেটের বিধান শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পরিচালকদের ক্ষেত্রে নয়।

তবে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবরের ওই ইজিএমে স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল—পরিচালকরা নির্ধারিত মূল্যে আনুপাতিক হারে শেয়ার কিনতে পারবেন; এরপরও যদি শেয়ার অবিক্রিত থাকে, তবে অন্য বিনিয়োগকারীরা সুযোগ পাবেন।

রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এনটিসি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কার্যকরী মূলধন জোগান এবং চা বাগান ও কারখানার উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিএসইসি নির্দেশ দেয়, সরকারের ৫১ শতাংশ শেয়ার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কোম্পানি ইতোমধ্যে ২৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছে।

২০২২ সালে বিএসইসি নির্দেশনা দেয় যে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা হতে হবে। এই শর্ত পূরণে এনটিসি রাইট শেয়ার ইস্যুর উদ্যোগ নেয়। বহুবার সময় বাড়ানোর পরও প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। সর্বশেষ ১৩ আগস্ট চতুর্থ রাউন্ডের আবেদন শেষ হয়েও কয়েক লাখ শেয়ার অবিক্রিত থেকে যায়।

গত বছরের এপ্রিলে বিএসইসি এনটিসিকে ২ কোটি ৩৪ লাখ রাইট শেয়ার ১১৯ টাকা ৫৩ পয়সা (১০৯ টাকা ৫৩ পয়সা প্রিমিয়ামসহ) দরে ইস্যুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে সরকার, আইসিবি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, স্পন্সর-পরিচালক ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ার বরাদ্দ ছিল।

সালাহউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে