ঢাকা, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

২৭ বীমা কোম্পানির হিসাব নিয়ে বিএসইসি’র লাল সংকেত

২০২৫ ডিসেম্বর ১৫ ২৩:১৬:১০
২৭ বীমা কোম্পানির হিসাব নিয়ে বিএসইসি’র লাল সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২৭টি তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানির সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে অডিট পর্যবেক্ষণের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সমস্যাগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারের স্বচ্ছতাকে দুর্বল করতে পারে।

২০২৪ অর্থবছরের বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিএসইসি আনুষ্ঠানিকভাবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) চিঠি দিয়ে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী চিহ্নিত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকরা তাদের অডিট রিপোর্টে বিভিন্ন গুরুতর পর্যবেক্ষণ, যেমন—প্রতিকূল মতামত, কোয়ালিফাইড মতামত, বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ, ‘গোয়িং কনসার্ন’ হুমকি এবং বস্তুগত অনিশ্চয়তা তুলে ধরেছেন। কমিশন উল্লেখ করেছে, এই ধরনের মতামতগুলো সাধারণত গুরুতর দুর্বলতা নির্দেশ করে, যা আর্থিক প্রতিবেদন, কর্পোরেট সুশাসন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

বিএসইসি মনে করে যে, এই নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণগুলো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা এবং শেয়ারবাজারের সার্বিক আস্থাকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে — বিশেষ করে এমন একটি খাতে যা দীর্ঘমেয়াদী দায় এবং জনসাধারণের বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে।

বিএসইসি কর্তৃক চিহ্নিত বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স।

বিএসইসির কর্পোরেট রিপোর্টিং বিভাগ থেকে আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে উল্লেখ করেছে, ‘গোয়িং কনসার্ন’ ঝুঁকি এবং বস্তুগত অনিশ্চয়তা সম্পর্কিত অডিট পর্যবেক্ষণগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগের, কারণ এগুলো সরাসরি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার এবং পলিসি হোল্ডারদের দায় পূরণের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কমিশন জোর দিয়েছে যে, আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবং বীমা খাতের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ-এর দ্রুত ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

বিএসইসি জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তারা তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, আইডিআরএ-এর সময়োপযোগী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ — যেমন উন্নত তদারকি, বিশেষ বা ফরেনসিক অডিট এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করা — বীমা খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সুশাসনকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএসইসি এবং আইডিআরএ-এর এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো বীমা খাতের দীর্ঘদিনের দুর্বলতাগুলো মোকাবিলা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যদি সংশোধনমূলক ব্যবস্থাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এই খাতটি বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে পারে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব হতে পারে।

বর্তমানে দেশে ৮২টি বীমা কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৮টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত, যা বীমা খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৩টি নন-লাইফ (সাধারণ) এবং ১৫টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে