ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

৯ তারিখ সারাদিন, ৩২-এ ভোট দিন!

২০২৫ আগস্ট ৩০ ১৬:৫৮:১২
৯ তারিখ সারাদিন, ৩২-এ ভোট দিন!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে রাফিয়া খন্দকারের নামে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া, যিনি বর্তমানে ডাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তার প্রচারণা ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি ১৯ আগস্ট নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন এবং একই দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

ব্যালট নম্বর ৩২: অভিনব প্রচারণা

সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর প্রকাশিত হলে, রাফিয়ার জন্য নম্বরটি ছিল ৩২। এই নম্বর পাওয়ার পর তিনি একটি অভিনব প্রচারণায় নেমেছেন। ২৮ আগস্ট রাতে, রাফিয়া তার ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করেন, যাতে ব্যালট নম্বর ৩২ এবং সদস্য পদ উল্লেখ ছিল। তবে তার পোস্টের ক্যাপশন ছিল সবচেয়ে নজরকাড়া: “ধানমন্ডি ৩২ মন্দ হলেও ডাকসু সদস্যপদের ৩২ নং ব্যালট কিন্তু একেবারেই উল্টো। ৯ তারিখ সারাদিন, ৩২-এ ভোট দিন!”

এই পোস্টের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখে পড়েন রাফিয়া। তার পোস্টে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য আসে এবং অনেকে রাগান্বিত রিয়্যাক্ট করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাফিয়া কমেন্ট লিমিটেড করে দেন এবং তার মন্তব্যে লিখেন, “বট আক্রমণ করে দেখি রিচ বেড়ে গেল। ধন্যবাদ।”

নির্বাচনী ইশতেহার: ২টি বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি

রাফিয়া তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে তিনি অন্যদের মতো জৌলুশপূর্ণ দীর্ঘ ইশতেহার ঘোষণা না করে, মাত্র দুটি বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার ভাষায়, "গালভরা কিছু ইশতেহার আর মুখে অহিংসা বোল প্রচার করে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু কথা রাখা যায় না।"

প্রথম প্রতিশ্রুতি: শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা

নির্বাচিত হলে, রাফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেবেন। শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টার বা বছরে গোপনীয়ভাবে শিক্ষক মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সিস্টেমটি পুরোপুরি কনফিডেন্সিয়াল থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের মতামত জানাতে পারেন।

দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি: ট্রাইব্যুনালের জবাবদিহি

রাফিয়া তার দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন তদন্ত ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে অভিযোগের দীর্ঘসূত্রিতা সমালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “সিনেটে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালগুলোকে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে।” এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগের অগ্রগতি অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারবেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হবে।

ইশতেহারের বাইরে: যৌক্তিক দাবির পাশে থাকার অঙ্গীকার

রাফিয়া তার নির্বাচনী ইশতেহারের বাইরে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবির পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি শুধু এই দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাই। তবে যৌক্তিক দাবির পক্ষে আমি সবসময় আপনার পাশে থাকবো।”

নতুন উদ্যোগ: ডাকসুর ওয়েবসাইট

রাফিয়া জানিয়েছেন, তিনি ডাকসুর জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তাদের মতামত ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন। ওয়েবসাইটে ‘আপনার প্রত্যাশা’ নামে একটি অপশন রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি জানাতে পারবেন।

এভাবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তার ব্যক্তিগত প্রচারণার মাধ্যমে রাফিয়া তার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনকে গতিশীল করে তুলেছেন এবং ছাত্রদের সমস্যার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে