ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

বাংলাদেশের কোটা যে কারণে ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

২০২৫ মার্চ ০৪ ১১:৫৬:১৫
বাংলাদেশের কোটা যে কারণে ভারতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা এবার কোটার সুবিধা ভোগ করতে যাচ্ছেন। সরকার সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং আহতদের পরিবারের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আসন সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিল, এবং এখন সেই আসনে গণঅভ্যুত্থানকারীদের পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। এরপরই ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে 'হাসিনা বিরোধী' আন্দোলন হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা মূলত কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে ছিল।

এই আন্দোলন এতটাই শক্তিশালী হয়েছিল যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং মহম্মদ ইউনূস কে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে রাজি করানো হয়, ফলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।

তবে আন্দোলনের মুখে, যে কোটার বিরুদ্ধে এত আন্দোলন হয়েছে, সেই কোটা এখন আবার ফিরে আসছে। সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদদের পরিবারকে কোটা সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা ছিল, এবং এখন গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের জন্যও সেই ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে।

অন্যদিকে, কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন এই কোটার সুবিধা ভোগ করার জন্য উদ্যোগী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে কোটার বিরোধিতা করে তারা আন্দোলন করেছেন, আজ সেই কোটার সুবিধা এখন তাদেরই হাতের নাগালে।

২০১৮ সালে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পর ২০২১ সালে হাই কোর্টে মামলা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের। পরে ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট ওই নির্দেশিকা বাতিল করে, এবং কোটা পুনর্বহাল করার রায় দেয়। এরপর বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল, যা সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।

এরপর সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়, যেখানে সরকারি চাকরিতে ৭% কোটা সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য ৫%, বিপর্যস্ত জনগণের জন্য ১% এবং বিশেষভাবে সক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১% আসন সংরক্ষিত রাখা হবে।

যে কোটা বিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিল, সেই আন্দোলনের নেতারাই এখন কোটার সুবিধা ভোগ করার জন্য এগিয়ে আসছেন। কোটা বিরোধী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোটা ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং মেধার ভিত্তিতে সুযোগ প্রদান, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা এখন কোটার সুবিধা নিতে আগ্রহী হয়েছেন। এই পরিবর্তন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন বিতর্কের সূচনা করছে।

এনামুল/

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে