ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

শেয়ারবাজারে বিদেশিদের সর্বোচ্চ পছন্দের আট কোম্পানি

২০২৫ এপ্রিল ০৪ ১৯:২৮:০৮
শেয়ারবাজারে বিদেশিদের সর্বোচ্চ পছন্দের আট কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বরাবরই নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির প্রতি বেশি রয়েছে। মূলত ভালো মৌলভিত্তির এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশি আগ্রহ দেখায়।

এরই ধারাবাহিকতায় শেয়ারবাজারের ৮টি কোম্পানির শেয়ারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ রয়েছে। যেগুলো হলো-অলিম্পিক ইন্ডাষ্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, নাভানা ফার্মা, রেনেটা ও স্কয়ার ফার্মা।

আলোচ্য কোম্পানিগুলোতে বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে ১০ শতাংশ থেকে ৩৪ শতাংশের বেশি। কোম্পানিগুলোতে বিদেশিদের সর্বশেষ শেয়ারের অবস্থা তুলে ধরা হলো-

অলিম্পিক ইন্ডাষ্ট্রিজ

কোম্পানিগুলোর মধ্যে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজে বিদেশিদের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ দেখা যায়। বর্তমানে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ৩৪.২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছর ৩১ জুন কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ২৩.৯৭ শতাংশ, যা পরে ১০.২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩৪.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে বিনিয়োগকারীদের মাত্র ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ৬০ শতাংশ। আগের বছরগুলোতে কোম্পানিটির ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ৪০ শতাংশের নিচে নামেনি।

ব্র্যাক ব্যাংক

ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে ৩২.২০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ৩২.০৯ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে ০.১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২.২০ শতাংশে। ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ ক্যাশ ও ১০ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২৩ সালে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ৭.৫০ শতাংশ ক্যাশ ও ৭.৫০ শতাংশ বোনাস।

বিএসআরএম লিমিটেড

বিএসআরএম লিমিটেডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ১৭.০৮ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ১৭.১২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের শেয়ার ০.০৪ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২৩ সালে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ২৫ শতাংশ ক্যাশ।

বেক্সিমকো ফার্মা

বেক্সিমকো ফার্মায় বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে ২৭.১২ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ২৭.১১ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে ০.০১ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ৪০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২৩ সালে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল ৩৫ শতাংশ ক্যাশ।

ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংকে বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে ১৭.৮৯ শতাংশ। গত বছর ৩১ জুন কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ১৩.১৬ শতাংশ। এরপর বিদেশিরা কোম্পানিটিতে ৪.৭৩ শতাংশ বাড়িয়েছেন। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে কোম্পানিটি একই পরিমাণ ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়ে আসছে।

নাভানা ফার্মা

নাভানা ফার্মায় বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে ১৯.৬৪ শতাংশ। গত বছর ৩১ জুন কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ২৭.৭৩ শতাংশ। চলতি বছর ৮.৯৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৯.৬৪ শতাংশে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২২ সালে কোম্পানিটি ১১ শতাংশ ক্যাশ এবং ২০২৩ সালে ১৩ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

রেনেটা

রেনেটা ফার্মায় বিদেশিদের শেয়ার রয়েছে ২০.৮৯ শতাংশ। গত বছর ৩১ জুন কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ২২.২৩ শতাংশ, যা ১.৩৪ শতাংশ কমে বর্তমানে ২০.৮৯ শতাংশে নেমেছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে ৯২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২৩ সালে দিয়েছিল ৬২.৫০ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ১৪০ শতাংশ ক্যাশ ও ৭ শতাংশ বোনাস। তবে ফার্মা খাতের অন্যতম মৌলভিত্তির কোম্পানিটি গত কয়েক বছর যাবত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে।

স্কয়ার ফার্মা

স্কয়ার ফার্মায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ১৫.৪৫ শতাংশ। গত বছর ৩১ জুন কোম্পানিটিতে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ১৩.৭৬ শতাংশ, যা পরবর্তীতে বেড়ে ১.৬৯ শতাংশ হয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালে বিনিয়োগকারীদের ৯২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ১০০ শতাংশ ক্যাশ এবং ২০২৩ সালে ১০৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এটি ফার্মা খাতের একটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির কোম্পানি।

মিজান/

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে