ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যে কারণে শীতে নারীদের হাত-পা কেন পুরুষের তুলনায় বেশি ঠান্ডা হয়

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১০:৩৭:৩৮
যে কারণে শীতে নারীদের হাত-পা কেন পুরুষের তুলনায় বেশি ঠান্ডা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : শীত এলেই অনেক নারী একটি পরিচিত অস্বস্তির মুখোমুখি হন—হাত ও পা যেন বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। মোজা পরা, গরম পানি ব্যবহার কিংবা ভাপ নেওয়ার পরও অনেক সময় এই ঠান্ডা ভাব কমে না। আশপাশের মানুষ যখন তুলনামূলক স্বাভাবিক অনুভব করেন, তখন প্রশ্ন জাগে—এটি কি শুধুই অনুভূতির ব্যাপার, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এটি মোটেও কল্পনা বা অতিসংবেদনশীলতার বিষয় নয়। বরং নারীদের শারীরিক গঠন, হরমোনের প্রভাব, বিপাকহার ও রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার পার্থক্যের কারণেই শীতে তাদের হাত-পা পুরুষদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানবদেহ প্রথমে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ফুসফুস—উষ্ণ রাখার চেষ্টা করে। এ সময় শরীর হাত ও পায়ের মতো প্রান্তিক অংশ থেকে রক্ত সরিয়ে কেন্দ্রীয় অঙ্গগুলোর দিকে পাঠায়।

নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় হয়। ফলে হাত ও পায়ের ত্বকে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে সেগুলো দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পড়ে।

নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন রক্তনালির কার্যকারিতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। শীতের সময় এই হরমোনের প্রভাবে রক্তনালিগুলো দ্রুত সঙ্কুচিত হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভাসোকনস্ট্রিকশন বলা হয়। এর ফলে হাত ও পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছাতে দেরি হয়।

এই কারণেই নারীদের মধ্যে রেনোডস ফেনোমেনন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এতে ঠান্ডা বা মানসিক চাপের সময় আঙুল সাদা, নীলচে বা লালচে হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনের ওঠানামাও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে।

পুরুষদের শরীরে সাধারণত পেশির পরিমাণ বেশি থাকে। পেশি বিশ্রাম অবস্থাতেও তাপ উৎপন্ন করে, ফলে তাদের বেসাল মেটাবলিক রেট তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি হলেও এই চর্বি মূলত শরীরের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে। হাত-পায়ের মতো প্রান্তিক অংশে এর তেমন প্রভাব পড়ে না। ফলে শীতে নারীদের হাত ও পা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়।

নারীদের গড় রক্তচাপ সাধারণত পুরুষদের তুলনায় কিছুটা কম হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক রক্তপ্রবাহের গতি ধীর হওয়ায় হাত ও পায়ে উষ্ণ রক্ত পৌঁছাতে সময় লাগে।

এ ছাড়া নারীদের মধ্যে রক্তাল্পতা বা আয়রনের ঘাটতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং ঠান্ডা লাগার অনুভূতি বাড়িয়ে তোলে। থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অটোইমিউন রোগ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

সব ক্ষেত্রে হাত-পা ঠান্ডা হওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। যদি এর সঙ্গে—ব্যথা বা অবশভাব, ত্বকের রং পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা স্থায়ী হওয়া।

এই লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলো হাইপোথাইরয়ডিজম, রেনোডস ফেনোমেনন, পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা অটোইমিউন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

শীতকালে নারীদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া মূলত শরীরের একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রক্রিয়া। হরমোন, বিপাকহার ও রক্তসঞ্চালন একসঙ্গে কাজ করে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখে—আর তার প্রভাব পড়ে হাত ও পায়ের ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও উপসর্গ গুরুতর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে