ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মানবিক ও জলবায়ু প্রকল্প বিপন্ন

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১১:০০:৩০
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মানবিক ও জলবায়ু প্রকল্প বিপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ জাতিসংঘসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করছে। এতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য নানা ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে সংস্থা থেকে সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু চুক্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সহযোগিতা সংস্থা। বিশেষ করে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC), ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC), ইউনেসকো, ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড এবং ইউনাইটেড নেশনস ডেমোক্রেসি ফান্ডসহ আরও ৩১টি সংস্থা রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং ইউনেসকো থেকে সরে গেছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের কারণ হলো এসব সংস্থা আর আমেরিকান স্বার্থ রক্ষা করছে না এবং অকার্যকর ও বৈরী এজেন্ডা প্রচার করছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুপাক্ষিক সংস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বাণিজ্য, শিক্ষা, মানবিক ও জলবায়ু সম্পর্কিত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার একটি বড় অংশ আসে ইউএসএআইডির মাধ্যমে। এই সংস্থার অর্থায়নে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা, পরিবেশ ও জ্বালানি এবং রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ায় অনেক প্রকল্প থেমে গেছে। এবার ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, মানবিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থায়নকারী দেশগুলো যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে অন্যান্য ধনী দেশও বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে দূরে সরে যেতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক সংস্থা দুর্বল হবে, বৈশ্বিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রভাবিত হবে, এবং বাংলাদেশসহ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলো ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের উপর দ্বিপাক্ষিক সমাধান প্রয়োগ করা কঠিন হবে। এছাড়া ফান্ড ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের মতো সংস্থার সহায়তা কমে গেলে বাংলাদেশের জলবায়ু কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও নৈতিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর প্রভাবের প্রতীকী মূল্যও বড়। অন্যান্য ধনী দেশগুলোও এ ধরনের বহুপাক্ষিক কর্মসূচি থেকে সরে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থায়ন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করবে।” যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বৈশ্বিক দারিদ্র্যতা, বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এখন এ ভূমিকা কমলে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অসুবিধায় পড়তে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে