ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

রেমিট্যান্সের জোয়ারে ব্যাংক আমানতে ২০ মাসের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৫:০১:২৭
রেমিট্যান্সের জোয়ারে ব্যাংক আমানতে ২০ মাসের রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসী আয়ের জোয়ারে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের নভেম্বর শেষে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০.৮০ শতাংশে, যা মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী বৃদ্ধির ফল, যদিও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও অনেকটাই স্থবির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ১৭ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। এর আগের মাস অক্টোবর শেষে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ঘর অতিক্রম করেছিল, তখন হার ছিল ১০.৪৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, আমানত বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল অত্যন্ত ভালো, যার বড় অংশ ব্যাংক আমানতে যুক্ত হয়েছে। তার ব্যাখ্যায়, ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা ডলার টাকায় রূপান্তরিত হয়ে সরাসরি ব্যাংক ব্যবস্থায় জমা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখনও চাপে রয়েছে, ফলে সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য আমানত বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়নি। তার মতে, সাধারণত অভ্যন্তরীণ আয় ও রেমিট্যান্স বাড়লে সঞ্চয়ও বাড়ে। যদিও বছরের শেষ দুই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে, তবে দেশীয় আয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা যায়নি।

ব্যাংকিং খাতে আতঙ্ক কমে যাওয়াকেই আমানত বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখার প্রবণতা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিসংখ্যানেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থানে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকার সরবরাহ বেড়ে বাজারে তারল্য বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।

মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান-উজ-জামান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে, যা বাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। এই অতিরিক্ত তারল্য ব্যাংক আমানত বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, একটি যৌথ ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়াতেও কিছু আমানত জমা হয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান জানান, ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি সরাসরি রেমিট্যান্স প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার মতে, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ আয়ের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে কেবল আগস্ট ও নভেম্বর মাসেই ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কে পৌঁছায়।

ইতিবাচক আরেকটি দিক হলো, ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে থাকা মুদ্রার পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধীরে ধীরে ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থ আবারও আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফিরে আসছে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।

তহা/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে