ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যেসব কারণে থাইরয়েড রোগে ভোগে শিশু

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:৫৮:১১
যেসব কারণে থাইরয়েড রোগে ভোগে শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মা ও শিশু বিভাগের সামনে সাবিনা বেগমের কোলে এক বছরের শিশু মৌমিতা। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, সঙ্গে থামছে না কান্না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জন্মগতভাবে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে শিশুটি। এর ফলে ধীরে ধীরে সে দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে।

সাবিনার মতো প্রতিদিন অন্তত আট থেকে ১০ জন অভিভাবক থাইরয়েডে আক্রান্ত শিশু ও কিশোরদের চিকিৎসার জন্য বারডেমে আসেন। সরেজমিনে কথা বলে জানা যায়, থাইরয়েড সমস্যার কারণে এসব শিশুরা শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতায় ভুগছে।

চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর প্রথম তিন বছরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পন্ন হয়, যার বড় অংশ ঘটে প্রথম বছরেই। এই সময় শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো কারণে এ হরমোনের ঘাটতি হলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়েডিজম।

শিশুর থাইরয়েড গ্রন্থি সম্পূর্ণভাবে গঠিত না হলে বা হরমোন উৎপাদনে সমস্যা হলে এই রোগ দেখা দেয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, থাইরয়েড কোনো সংক্রামক রোগ নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি বংশানুক্রমিক। জিনগতভাবে প্রতি ২ হাজার ৩০০ জনে একজন শিশু থাইরয়েড সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। প্রতি ১০ জন নারীর একজন এই রোগে ভুগছেন। বাবা-মা উভয়ের থাইরয়েড সমস্যা থাকলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিও থাইরয়েড সমস্যার অন্যতম কারণ। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে অপরিহার্য। আবার কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ কমে যেতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যে দেখা দেয়।

মাতৃগর্ভে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই সব অন্তঃসত্ত্বা নারীর থাইরয়েড পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বিএমইউর ডায়াবেটিস ও হরমোন বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ স্কুলগামী শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড রোগের সব ধরনের চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বিএমইউর থাইরয়েড ক্লিনিক গত ৩০ বছর ধরে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ে সেবা দিয়ে আসছে। এছাড়া বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ দেশের প্রায় সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে থাইরয়েডের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, শিশুদের থাইরয়েড সমস্যায় হরমোন নিঃসরণ কমে গেলে তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিবিকাশ ব্যাহত হয়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অতিরিক্ত ঘুম, খাওয়ায় অনীহা, ওজন বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী জন্ডিস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ত্বকের সমস্যা।

তিনি জানান, থাইরয়েড সমস্যা মূলত দুই ধরনের—হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম নিঃসরণ) ও হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি নিঃসরণ)। শিশুদের মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমই বেশি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

ডা. মাজহারুল হক তানিম (হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ) জানান, থাইরয়েড আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই নারী। প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ সাব-ক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগলেও তারা তা জানে না।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে