ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

৪ আলামত থাকলেই বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালোবাসেন

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৬:৩৮:৫৬
৪ আলামত থাকলেই বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালোবাসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষা হলো আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসা অর্জন করা। কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া পরকালীন সফলতা সম্ভব নয়। মানুষ জীবনে যত কিছুই অর্জন করুক, শেষ পর্যন্ত তার চাওয়া একটাই—রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য।

অনেকেই মনে করেন, শুধু ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়। কিন্তু প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন কিছু বিশেষ লক্ষণের মাধ্যমে, যা অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম।

তার মতে, কোনো বান্দার জীবনে যদি নির্দিষ্ট কিছু আলামত প্রকাশ পায়, তবে তা আল্লাহর ভালোবাসার ইঙ্গিত বহন করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেই গুরুত্বপূর্ণ চারটি আলামত—

১. মুমিনদের ভালোবাসা পাওয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিব্রাইল (আ.)-কে বলেন—আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো। এরপর জিব্রাইল (আ.) আকাশে ঘোষণা দেন—আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো। ফলে আকাশবাসীরা তাকে ভালোবাসে এবং জমিনে তার গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়।”(মেশকাত: ৫০০৫)

শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করে বলেন, এখানে ‘মানুষের ভালোবাসা’ বলতে সাধারণ জনপ্রিয়তা বোঝানো হয়নি। অনেক অবিশ্বাসী বা পাপী ব্যক্তিও মানুষের কাছে জনপ্রিয় হতে পারে। বরং এখানে বোঝানো হয়েছে—নেককার ও ঈমানদারদের হৃদয়ে সেই বান্দার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া।

২. দুনিয়ামুখিতা না থাকা

আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তার অন্তরে দুনিয়ার পদ-পদবি, সম্পদ কিংবা ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত মোহ থাকে না। আল্লাহ তায়ালা অনেক প্রিয় বান্দাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুনিয়ার প্রাচুর্য থেকে দূরে রাখেন, যেন দুনিয়া তাদের অন্তর দখল না করতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,“আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য থেকে বাঁচিয়ে রাখেন, যেমন কেউ তার অসুস্থ সন্তানকে ক্ষতিকর পানি থেকে দূরে রাখে।”(তিরমিজি: ২০৩৬)

তবে শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্ট করেন, এর অর্থ এই নয় যে—যাদের দুনিয়া দেওয়া হয়েছে, তারা আল্লাহর প্রিয় নন। হজরত সোলায়মান (আ.), দাউদ (আ.) ও উসমান (রা.)-এর মতো বহু প্রিয় বান্দাকে আল্লাহ দুনিয়ার প্রাচুর্য দিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের হৃদয়ে দুনিয়ার মোহ ছিল না।

৩. বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া

যাদের আল্লাহ ভালোবাসেন, তাদের জীবনে প্রায়ই বিপদ ও পরীক্ষার উপস্থিতি দেখা যায়। কারণ আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের ঈমান পরিশুদ্ধ করার জন্য পরীক্ষা করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,“মুমিনের জন্য দুনিয়া কারাগারের মতো, আর কাফিরের জন্য জান্নাতের মতো।”(মুসলিম: ২৯৫৬)

আরেক হাদিসে এসেছে,“আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন। যে এতে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে।”(তিরমিজি: ২৩৯৬)

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তাই বিপদ আসলেই হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে পারা আল্লাহর ভালোবাসার বড় আলামত।

৪. দ্বীনি জ্ঞান ও নেক আমলের তাওফিক পাওয়া

আল্লাহর ভালোবাসার সবচেয়ে শক্তিশালী নিদর্শন হলো—দ্বীনের গভীর বুঝ এবং নেক আমলের সুযোগ পাওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,“আল্লাহ যাকে কল্যাণ দিতে চান, তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন।”(বোখারি: ৭১, মুসলিম: ১০৩৭)

অন্য হাদিসে এসেছে,“আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন।”(তিরমিজি: ২১৪২)

অর্থাৎ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ভালো কাজের সুযোগ পাওয়া আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আল্লাহর ভালোবাসা কোনো কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। এটি বান্দার জীবনেই প্রকাশ পায়—মানুষের গ্রহণযোগ্যতা, দুনিয়াবিমুখতা, ধৈর্যপূর্ণ জীবন এবং নেক আমলের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে।

এই আলামতগুলো যদি কারও জীবনে দেখা যায়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নিয়ামত ও সুসংবাদ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে