ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ঔষধের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রেখে ওমরাহ করা যাবে?

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৫:৫১:২৭
ঔষধের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রেখে ওমরাহ করা যাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঔষধের মাধ্যমে ঋতুস্রাব (হায়েজ) বন্ধ রেখে ওমরাহ আদায় করা যাবে কি না—এ বিষয়ে অনেক নারীর মধ্যেই প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের সফরে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে হায়েজ শুরু হলে করণীয় নিয়েও দেখা দেয় বিভ্রান্তি। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হলো।

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ঋতুস্রাব বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে ওষুধ গ্রহণ করা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। শর্ত হলো—বিশ্বস্ত চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব ওষুধ গ্রহণে তাৎক্ষণিক কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যদি চিকিৎসকদের মতে এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাহলে সে ওষুধ গ্রহণ করা জায়েজ হবে না। কারণ ইসলাম যেমন অন্যের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি নিজের ক্ষতি করাও হারাম করেছে। ইসলামে সুস্থতা ও স্বাস্থ্য রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নারীদের ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক শারীরিক প্রক্রিয়া। সময়ের আগে ওষুধের মাধ্যমে এটি বন্ধ করার ফলে অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা থাকে। তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

তবে যদি কোনো নারী চিকিৎসকের পরামর্শে এমন ওষুধ গ্রহণ করেন এবং তাতে প্রকৃতপক্ষে ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে, তাহলে তাকে শরিয়তের দৃষ্টিতে পবিত্র হিসেবেই গণ্য করা হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি নামাজ আদায় করতে পারবেন, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন, রোজা রাখতে পারবেন এবং তার তাওয়াফ ও ওমরাহও সহিহ হবে।

অন্যদিকে, কোনো নারী যদি ঋতুস্রাব বন্ধ করার ওষুধ না খেয়ে ওমরাহর সফরে যান এবং তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর তার ঋতুস্রাব শুরু হয়, তাহলে তিনি ঋতুস্রাব চলাকালীন অবস্থাতেই সাঈসহ ওমরাহর বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

কিন্তু যদি তাওয়াফ করার আগেই ঋতুস্রাব শুরু হয়, তাহলে সম্ভব হলে সফরের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। এ সময়ের মধ্যে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করবেন।

যদি সফরের সময় শেষ হয়ে আসে এবং ঋতুস্রাব বন্ধ না হয়, তাহলে শেষ পর্যায়ে ওই অবস্থাতেই তাওয়াফ করবেন, এরপর সাঈ সম্পন্ন করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবেন। তবে অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করার কারণে একটি দম (ফিদিয়া) আদায় করতে হবে। অর্থাৎ হারাম এলাকার ভেতরে একটি ছাগল বা দুম্বা জবাই করতে হবে।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, পরিস্থিতি ও সামর্থ্য বিবেচনায় এভাবেই নারীদের জন্য ওমরাহ আদায়ের বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে