রাষ্ট্রের স্বীকৃতিতে ফিলিস্তিনের কী লাভ?
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগালসহ পশ্চিমা বিশ্বের বেশ কিছু প্রভাবশালী দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস মূলত একটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠনের পথ দীর্ঘদিন রুদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। এরপর সামরিক শাসন, বসতি স্থাপন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দখলদার ইসরায়েলের বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৬৯ সালে তখনকার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ার এক বিতর্কিত বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি বলেন, "এই এলাকায় ফিলিস্তিনিদের নামে কিছুই নেই।" এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্রত্বের ধারণাকে সংগঠিত করার জন্য কাজ শুরু করে। ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণা লিখেছিলেন প্রসিদ্ধ কবি মাহমুদ দারবিশ এবং এটি প্রদান করেছিলেন পিএলও-এর নির্বাসিত নেতা ইয়াসির আরাফাত।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের অবস্থান ছিল মিশ্র। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান, ইরান, সৌদি আরবসহ বহু দেশ ফিলিস্তিনকে সমর্থন ও স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ইয়াসির আরাফাতকে জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতিও দেয়নি, যার ফলে জেনেভায় জাতিসংঘের বৈঠক স্থানান্তর করতে হয়।
নব্বই দশকে অসলো চুক্তি একটি আশার আলো জাগিয়েছিল, তবে তা সীমাবদ্ধ থেকে যায় অস্থায়ী স্বশাসিত প্রশাসনের মধ্যেই, যেখানে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব, স্বাধীন সীমান্ত বা স্থায়ী রাজধানী ছিল না। এরপরের দশকগুলোতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পরিবর্তে ইসরায়েলি দখল আরও সুসংহত হয়েছে।
বর্তমানে ফিলিস্তিন একটি আধা রাষ্ট্র বা কোয়াজি স্টেট হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের উপস্থিতি রয়েছে, কূটনৈতিক মিশন রয়েছে এবং তারা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করে। ২০১২ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন স্থায়ী পর্যবেক্ষক মর্যাদা পায়। তবে পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলের কার্যত নিয়ন্ত্রণ এবং দখলের বাস্তবতা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে পূর্ণতা দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর স্বীকৃতি বাস্তবে খুব বড় কিছু পরিবর্তন আনবে না। তবে এটি সম্পূর্ণ অবহেলা করা যাবে না, কারণ এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কাঠামোর অংশ করে তোলে। এর ফলে ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে পারবে, যুদ্ধবিরতির পক্ষে আরও শক্তিশালী দাবি তুলতে পারবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় ইসরায়েল ও তার মিত্রদের একতরফা সিদ্ধান্ত চাপানো কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বীকৃতির ফলে একটি নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন ওঠে, ইউরোপীয় দেশগুলো কেন এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের হামলা এবং তার পরপরই ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ঘটনায়। ওই হামলার নৃশংসতা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আঘাত, বিশ্ব জনমতের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। ইউরোপীয় নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ব্যাপক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। মিডিয়াতে উঠে এসেছে গাজার ধ্বংস, দুর্ভিক্ষ, শিশুদের মৃত্যু এবং ইসরায়েলের দখলদার নীতির ভয়াবহ চিত্র।
এ পরিস্থিতি ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের জন্য নৈতিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। তারা বলছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরও নৈতিক ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব জনমত পাল্টাচ্ছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি পাচ্ছে একের পর এক দেশের কাছ থেকে, আর তখন যুক্তরাষ্ট্র একাকীত্বে পড়েছে। এটি শুধু কূটনৈতিক সংকট নয়, একটি নৈতিক প্রশ্নও বটে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো রাষ্ট্র যখন ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্রত্বের স্বীকৃতি দিতে অনীহা দেখায়, তখন সেটি পশ্চিমা মূল্যবোধের ওপর প্রশ্ন তোলে।
জনমতের সমর্থনও ক্রমশ বেড়ে চলেছে ফিলিস্তিনের পক্ষে। এই বহুমুখী চাপের মুখে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরাও তাদের কূটনীতি পুনর্গঠন করার চিন্তা করবে। আর তখন ফিলিস্তিন নতুন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
মুসআব/
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- পিপলস ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনতে বদলাচ্ছে আইপিও নিয়ম
- হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- বিরোধীদলের প্রস্তাবে সাড়া: বড় সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
- ঝালমুড়ি খেয়েই কটাক্ষ, নিজেই ব্যাখ্যা দিলেন মোদি
- এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- আইন ভাঙায় লংকাবাংলা সিকিউরিটিজকে বিএসইসির সতর্কবার্তা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫০ কোম্পানি
- টেঁটা নিয়ে মাঠে নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া! সংসদে বিস্ফোরক মন্তব্য
- বিদ্যুৎ যায়, নাকি আসে? আসিফ মাহমুদের প্রশ্নে তোলপাড়
- ১০৭টি বিও অ্যাকাউন্টে বেক্সিমকোর ৬,৭৫৫ কোটি টাকা জব্দ
- সূচক স্থিতিশীল, ইতিবাচক ধারায় সপ্তাহ শেষ শেয়ারবাজারে
- প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ল বাসভাড়া
- দুই রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল
- একযোগে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে
- “তুই দাঁতাল, তোর দাঁত থাকবে না”
- তেলের সংকট নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী
- ছাত্রদল-শিবির সংঘ/র্ষে কিরিচ বিতর্কে নতুন মোড়
- ‘সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন?’: স্পিকার
- জামায়াত জোটের জন্য দুঃসংবাদ
- বাসভাড়ার নামে ‘গায়েবি খরচ’, উঠছে বড় প্রশ্ন
- চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে ৫ খাবার খাবেন
- ফরিদপুর ও শেরপুরে গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল
- ১ ঘণ্টা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা—শেষে যা হলো
- তিন ‘বাধা’তেই থমকে বিশ্ব রাজনীতি
- মুক্তিপণ দিয়ে ঘরে ফিরলেন রুস্তম, পুলিশ এল ছবি তুলতে
- ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নাম পরিবর্তনে ডিএসইর অনুমোদন
- ২২ ক্যারেট সোনার নতুন দাম নির্ধারণ
- ক্রেডিট রেটিংয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে সিঙ্গার বাংলাদেশ
- গ্রামীণ ফোনের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- সিঙ্গার বিডির প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
- ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ইবনে সিনার তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- এশিয়া ইন্সুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- রিং সাইন টেক্সটাইল কাণ্ডে ৩ নামী অডিট ফার্ম শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫৪ কোম্পানি
- মতিঝিলে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক, ব্যাংক খাত নিয়ে নতুন প্রশ্ন
- পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন পদে বড় রদবদল
- এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ
- বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্ক, ভিডিও ধারণ করে স্বামীর কাছে....
- ঢাকার নতুন ডিসি ফরিদা খানম
- ৪৫ লাখ শেয়ার উপহার হিসেবে হস্তান্তর
- সূচক উত্থানের নেতৃত্বে ৮ কোম্পানি
- বিক্রেতা সঙ্কটে হল্টেড ৭ কোম্পানি
- উত্থানের ধারায় শেয়ারবাজার, দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন
- সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসেছে ৭ হাজার বিনিয়োগকারী
- যে কারণে দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ১৯ কোম্পানি
- গৃহপরিচারিকা ফাতেমার গল্প শোনালেন প্রধানমন্ত্রী
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫৪ কোম্পানি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ১১ কোম্পানি
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ২৭ কোম্পানি
- চলতি সপ্তাহে আসছে ১০ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- পিএইচডি করেও পিএস! তীব্র সমালোচনায় ঢাবি শিক্ষক
- সপ্তাহজুড়ে চার কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসেছে ৭ হাজার বিনিয়োগকারী
- পদোন্নতির পর ওএসডি হলেন দুই বিভাগীয় কমিশনার
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- নাভানা ফার্মায় দখল যুদ্ধ, ফাঁদে পড়ে বরখাস্ত বিএসইসি কর্মকর্তা
- শেয়ার দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় ডিএসইর সতর্কবার্তা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৫০ কোম্পানি












.jpg&w=50&h=35)
