ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ হয় যখন

২০২৫ মার্চ ২৭ ১২:০৫:৫৭
রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ হয় যখন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা আলোচনায় এসেছে, বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি, অস্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতা, ক্ষমতার দখল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শূন্যতা অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

১৯৭৫: প্রথম সামরিক শাসন ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশে প্রথম সামরিক বাহিনীর উত্থান ঘটে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এ ক্ষমতায় আসেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন শুরু হয়।

১৯৮২: এরশাদের ক্ষমতা দখল জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। এরশাদ নিজে বলেছিলেন যে, "মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধুমাত্র বাহিনী নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ভূমিকা রাখতে হবে।" এরশাদও একসময় দাবি করেছিলেন যে সেনাবাহিনী গণতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করবে।

২০০৭: এক এগারোর শাসন ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আবারও দৃশ্যমান হয়। ২০০৬-০৭ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ না করলেও, "সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার" গঠন করে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। তখন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ, দুর্বলতা এবং জনগণের আস্থা হারানোর কারণে সেনাবাহিনীকে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হয়। এর ফলে, রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়তা করতে দেখা যায়।

সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল না করলেও, তারা রাজনৈতিক শূন্যতা ও অস্থিতিশীলতার সময়ে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে। ২০০৭ সালের এক এগারোর সময়, যখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংকট দেখা দেয়, সেনাবাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নামেছিল। যদিও সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও, তাদের ভূমিকা প্রকাশ্যে ছিল এবং তারা সরকারের গঠন ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। কিছু রাজনৈতিক নেতার মতে, সেনাবাহিনী যখন প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে, তখন জনগণের জন্য এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, কিন্তু এর বিপরীত দিকও রয়েছে—এটি গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনীতির দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অদক্ষতার কারণেই সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে, তারা সতর্ক করে দেন যে, রাজনীতির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কোনো ধরনের অগ্রাধিকার দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভারতের পাকিস্তানে সেনাবাহিনী যেভাবে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, বাংলাদেশেও একই ধরনের হস্তক্ষেপ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য দলের নেতারা বলেন, রাজনীতিবিদদের দুর্বলতা এবং অদক্ষতার কারণে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়। তবে, তারা দাবি করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব, এবং তখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা সীমিত থাকবে।

সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ দেশের গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে, এবং এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ববোধ এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন।

আরিফ/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে