ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

এতকিছুর পরও বাংলাদেশের উপর ভারতের দাদাগিরি

২০২৫ মার্চ ২০ ১৪:৫৫:১৩
এতকিছুর পরও বাংলাদেশের উপর ভারতের দাদাগিরি

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করে ভারতের হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের ওপর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে ভারত ঢাকার ওপর এক ধরনের দাদাগিরি চালিয়েছে। ৫ আগস্টের শেখ হাসিনার পলায়নের পর সেই দাদাগিরির অবসান ঘটলেও ভারত এখনও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে ছাড়েনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিতর্কিত মন্তব্য এবং অপপ্রচার একদিকে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষত, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের মন্তব্যগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের প্রতি এক অযাচিত নাক গলানোর উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করা উচিত এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিও জানান।

ভারতীয় মন্তব্যের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্পষ্ট করেন যে, বেশিরভাগ সহিংসতার ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে, আর গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশের অনুসন্ধানেও রাজনৈতিক কারণেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটে।

তবে, ভারতের গণমাধ্যম এখন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান এবং শৃঙ্খলা ভেঙে পড়া নিয়ে খবর প্রচার করছে, যা পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এসব প্রতিবেদন ও গুজব বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায়ও বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা উঠে আসে। এর পাশাপাশি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আলোচনায় বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এসব হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্য এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

অপরদিকে, ভারতের জন্যও এই অযাচিত হস্তক্ষেপ ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধুমাত্র সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু হতে পারে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশের জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি সংশোধন করা।

মুসআব/

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে