ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপাকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার পোশাক ব্যবসায়ীরা

২০২৫ এপ্রিল ০৪ ১০:৫৭:০৪
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপাকে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার পোশাক ব্যবসায়ীরা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক: কোভিড, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা তৈরি পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে নিজেদের সমৃদ্ধির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কের ঘোষণায় এই প্রত্যাশা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ট্রাম্প শ্রীলঙ্কার জন্য ৪৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জন্য ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে দেশ দুটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা চিন্তিত, নতুন শুল্কের প্রভাব তাদের বিক্রয় এবং কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং ক্রয়াদেশগুলি কম শুল্কযুক্ত ও বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর কাছে চলে যাবে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ। তৈরি পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এই শিল্প নারী কর্মীদের সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গত বছর বাংলাদেশের সরকারের পতন ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা শেষে দেশটি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি পোশাক শিল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে আমরা অগ্রগতি শুরু করেছিলাম, তবে এই ধরনের শুল্কের ঘোষণায় আমাদের জন্য নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি হচ্ছে।’

শ্রীলঙ্কার তৈরি পোশাক শিল্পে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন এবং তাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক তৈরি পোশাক থেকে আসে। দেশটির অর্থনীতি ২০২২ সালে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রণোদনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার জয়েন্ট অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের পরামর্শক তুলি কুরে মন্তব্য করেন, ‘৪৪ শতাংশ শুল্ক অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটা আমাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।’

বিশ্লেষকরা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শুল্ক শুধু পোশাক উৎপাদক দেশগুলোর অর্থনীতিতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্যও চাপ তৈরি করবে।

উইলিয়াম ব্লেয়ারের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাকের ওপর গড়ে ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হয়েছে, যা পণ্যের খরচ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্যও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী অনিল জয়ন্ত ফার্নান্দো আশাবাদী, তিনি আলোচনা করে এই শুল্ক কমানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই কঠিন পরিস্থিতির সমাধান করতে আলোচনার পথ খুঁজছি।’

মিজান/

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে