ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

যে কারণে জেলেনস্কিকে বের করে দিলেন ট্রাম্প

২০২৫ মার্চ ০১ ০৯:৪৪:১০
যে কারণে জেলেনস্কিকে বের করে দিলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক আলোচনার মুহূর্ত। বৈঠকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। মূলত, আলোচনার বিষয় ছিল ইউক্রেনের বিরল খনিজসম্পদ এবং অন্য খনিজসম্পদ, জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, এবং ইউক্রেনের অবকাঠামো, বিশেষ করে গ্যাস টার্মিনাল এবং বন্দরের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা।

বৈঠকটি শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প জেলেনস্কিকে সরাসরি আক্রমণ করেন এবং অভিযোগ করেন যে, ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য যথেষ্ট কৃতজ্ঞ নন। ট্রাম্প আরও বলেন, জেলেনস্কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে "জুয়া খেলছেন" এবং তাকে সতর্ক করেন যে, যদি ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনের সমর্থন করবে না। তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, "আপনাকে হয় রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে হবে নইলে আমরা আর আপনাদের সঙ্গে নেই। আমরা না থাকলে আপনাকে একা লড়তে হবে।"

এটি ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে তার অগ্রাধিকার এবং ইউক্রেনের প্রতি তার মনোভাবের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করতে চান এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী, যা তার প্রশাসনেও ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাকে একটি "শান্তি প্রতিষ্ঠাতা" হিসেবে মনে করা হবে, এবং সে কারণে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করার পক্ষেই ছিলেন।

অন্যদিকে, জেলেনস্কি অত্যন্ত কঠোরভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আক্রমণ করেন এবং বলেন, "একজন হত্যাকারীর সঙ্গে কোনও আপস নয়।" তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তিতে যেতে চান না, কারণ পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলতে থাকা ইউক্রেনের জনগণের প্রতি অত্যাচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এছাড়া, বৈঠকে আলোচ্য চুক্তির একটি মূল বিষয় ছিল, ইউক্রেনের খনিজসম্পদ থেকে আসা আয় থেকে অর্ধেক একটি পুনর্গঠন তহবিলে জমা দেওয়ার শর্ত, যা যৌথভাবে ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এই তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত হবে, তবে এর বিস্তারিত শর্তাবলী এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে, ট্রাম্প আশা করেছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শত শত বিলিয়ন ডলার লাভ করবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনিজসম্পদ, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন গ্যাস টার্মিনাল এবং বন্দরের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে জেলেনস্কি এ ধরনের একটি চুক্তির বিরুদ্ধে ছিলেন এবং জানিয়ে দেন, তিনি এমন কোনও চুক্তিতে সই করবেন না, যা তার দেশকে কয়েক প্রজন্ম ধরে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেবে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের একটি চুক্তি ইউক্রেনের ভবিষ্যতকে বিপন্ন করবে।

এই বৈঠকটি একটি রাজনৈতিক নাটক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হতে পারে, যেখানে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং এর আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পের সাথে এই তীব্র বাগবিতণ্ডার পর, জেলেনস্কি বৈঠক শেষ না হওয়া অবস্থাতেই হোয়াইট হাউস থেকে চলে যান। এটি একটি ইঙ্গিত হতে পারে যে, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ভবিষ্যত আরও জটিল হতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করছে।

আদনান/

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে