ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

আইএমএফের দুই কিস্তি একসঙ্গে পাওয়ার আশা সরকারের

২০২৫ এপ্রিল ০৫ ০৯:৩২:১৫
আইএমএফের দুই কিস্তি একসঙ্গে পাওয়ার আশা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ কার্যক্রমের আওতায় অর্থ ছাড়ের আগে শর্তগুলি পর্যালোচনা করতে আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল আজ শনিবার ঢাকায় আসছে। প্রতিনিধি দলটি দুই সপ্তাহের সফরে বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবে। সরকার আশা করছে, সফর শেষে তারা প্রতিশ্রুত ওই ঋণের দুটি কিস্তি একসাথে পেতে সক্ষম হবে।

আইএমএফ-এর প্রতিনিধি আগামীকাল রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করবেন। এরপর তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবে। বৈঠকগুলোতে আইএমএফ ঋণ চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ও শর্তের বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। সফরের শেষ দিন ১৭ এপ্রিল প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করবে।

আইএমএফের সঙ্গে সরকারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। এর মধ্যে সরকার তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার ঋণ পেয়ে। কিন্তু কিছু শর্ত পূর্ণ না হওয়ায় চতুর্থ কিস্তিটি ছাড় হয়নি। চলমান সফরে সন্তোষজনক অগ্রগতি হলে আগামী জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি একসাথে ছাড় হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তবে এই ঋণ কর্মসূচির কিছু শর্ত পালনের ব্যাপারে সরকারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের ভর্তুকি কমিয়ে দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপরে ছেড়ে দেয়ার শর্ত রয়েছে, যা সরকারের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। এ বিষয়গুলোতে সরকার আরও সময় নিতে চায়।

আইএমএফের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নিয়ে আসার পাশাপাশি ব্যাংক খাতে বেশ কিছু সংস্কারমূলক শর্ত দেয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৪০ শতাংশের উপরে উঠে গেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের ব্যর্থতা বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শর্ত পূরণের বিষয়ে দর-কষাকষির ফলে আইএমএফের কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি আরও ঝুলে যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে নমনীয় মনোভাব প্রদর্শনের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে আইএমএফ যদি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তাহলে সরকারকে কিছু করার থাকবে না।

সম্প্রতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, “বাজেট সহায়তার জন্য আইএমএফ ঋণ প্রয়োজন, এ কারণেই বাংলাদেশ সরকার ও আইএমএফ যৌথভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।”

মিজান/

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে