ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
Sharenews24

মধ্যম আয়ের ফাঁদে বাংলাদেশ, অব্যাহত বৈষম্য ও দারিদ্র্য

২০২৫ আগস্ট ৩১ ১৫:৪৭:১৬
মধ্যম আয়ের ফাঁদে বাংলাদেশ, অব্যাহত বৈষম্য ও দারিদ্র্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গত তিন বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এর মূল কারণ হলো, অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা গোষ্ঠী এখন আর ক্ষমতায় নেই। তিনি বলেন, “অর্থ পাচার বন্ধ হয়েছে, হুন্ডির প্রবাহ কমেছে, বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে বেশি, আর ব্যাংক খাতের লুটপাট বন্ধ হয়েছে।” তবে ক্ষুদ্র ও পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। ব্যক্তি বিনিয়োগ, মজুরি হার, দারিদ্র্য এবং বৈষম্য বেড়েছে আগের তুলনায়।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথ’। প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন ইআরএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান ও আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোয়াজ্জেম হোসেনের অবদান স্মরণ করেন এবং বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি; বরং বৈষম্য আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপ প্রসঙ্গে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ভারত ও চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ২০৫ কোটি ডলার রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে।

সংস্কার প্রসঙ্গে ড. জাহিদ বলেন, সাধারণ মানুষ সংস্কার চায়, কিন্তু বাস্তবায়নে প্রভাবশালী পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। অনেকেই অন্যদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেন। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই সংস্কার হবে না; এর জন্য প্রশাসনের অংশগ্রহণ, উপদেষ্টা পরিষদ, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা দরকার। অন্যথায় সংস্কার মাঝপথে আটকে যাবে।বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন—কেউ আন্তরিক, কেউ সাহসী, কেউ দিশাহারা, আবার কেউ অসহায়।

ড. জাহিদ বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম কমেছে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এসেছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, খাদ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যবহির্ভূত খাতে উন্নতি হয়নি। রিজার্ভ বেড়েছে, তবে টাকার মান কমেছে। খেলাপি ঋণের অঙ্কও বড় আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রশংসা করেন খেলাপি ঋণ হিসাবের নতুন পদ্ধতি ও প্রকৃত ঋণগ্রহীতার তথ্য প্রকাশের উদ্যোগকে।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। এমন পরিবার বেড়েছে যারা দরিদ্র নয়, তবে সামান্য অভিঘাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। জটিল রোগে আক্রান্ত পরিবার এবং বৈষম্যের শিকার মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এলেও পরিবার পর্যায়ে সংকট প্রকট।

তার ভাষায়, “বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে গেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দুর্বল ব্যাংক খাত, লজিস্টিক দুর্বলতা, শ্রমবাজারের উন্নয়ন না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এই ফাঁদ থেকে উত্তরণের পথে প্রধান বাধা।”

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে