ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

আপিলে আটকে এস আলমের অর্থপাচারের অনুসন্ধান

২০২৩ আগস্ট ২৪ ১১:১৯:৫৯
আপিলে আটকে এস আলমের অর্থপাচারের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। বুধবার (২৩ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছে চেম্বার আদালত।

আদালতে এস আলমের আইনজীবী ছিলেন আজমালুল হোসেন কেসি, আহসানুল করিম এবং মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ রাজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

আদেশের বিষয়ে আইনজীবী আহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এস আলম গ্রুপের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশের উপর স্টাটাসকো (স্থিতিবস্থা) বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, সাবজেক্ট ম্যাটারের ওপর স্থিতিবস্থা থাকবে।’ এর ফলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান, বক্তব্য প্রদান কিছুই করা যাবে না। যেমন আছে, তেমনই থাকবে বলে জানান এ আইনজীবী।

এস আলমের অর্থ পাচার নিয়ে গত ৪ আগস্ট ডেইলিস্টার পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্টটি আদালতের নজরে আনেন পুলিশকোর্টের আইনজীবী সায়েদুল সুন্দরমন। পরে মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও পরিচিত খিজি হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এস আলমের অর্থ সদস্যদের অভিযোগ অনুসন্ধান করার দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে এই অর্থ পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুদক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সেটির শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত আজ এ আদেশ দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম সিঙ্গাপুরে কমপক্ষে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যদিও বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি নেননি।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাইরে বিনিয়োগের জন্য এ পর্যন্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামভিত্তিক বিশাল এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম সেই তালিকায় নেই।

কাগজপত্রে আরও দেখা যায়, গত এক দশকে সিঙ্গাপুরে এস আলম অন্তত দুটি হোটেল, দুটি বাড়ি, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং অন্যান্য যে সম্পদ কিনেছেন এবং সেখানেও বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ থেকে ৪০.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে বিনিয়োগের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে, এই পরিমাণ অর্থ ২০০৯ সালের পর সিঙ্গাপুরে এস আলমের কেবল দুটি হোটেল ও একটি বাণিজ্যিক স্পেস কেনা ৪১১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দশ ভাগের এক ভাগ মাত্র।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিতে দেখা যায়, এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৈধ উপায়ে সিঙ্গাপুরে ১ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানও এস আলমের মালিকানাধীন নয়।

শেয়ারনিউজ, ২৪ আগস্ট ২০২৩

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে