ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

৫১ বছর পর ‘ডুমসডে প্লেন’: বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা

২০২৬ জানুয়ারি ১২ ০০:২২:৫৭
৫১ বছর পর ‘ডুমসডে প্লেন’: বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট: দীর্ঘ ৫১ বছর পর হঠাৎ করেই লস অ্যাঞ্জেলেসের আকাশে দেখা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গোপন ও সুরক্ষিত সামরিক বিমান বোয়িং ই–৪বি। ‘নাইটওয়াচ’ বা বহুল পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত এই বিমানটি গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে উৎকণ্ঠা ও আলোচনার জন্ম দেয়।

বিশেষভাবে তৈরি এই বিমানটি মূলত পারমাণবিক যুদ্ধ কিংবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ভয়াবহ দুর্যোগের সময় আকাশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে, যেখান থেকে জরুরি মুহূর্তে রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এমন ক্ষমতার কারণেই বিমানটিকে ঘিরে সব সময়ই রহস্য ও ভয় মিশে থাকে।

এই অস্বাভাবিক উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার জবাবে পেন্টাগন জানায়, এটি কোনো জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানটিতে করেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লস অ্যাঞ্জেলেসে সফরে এসেছেন। বর্তমানে তিনি ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ নামে দেশব্যাপী একটি সফর কর্মসূচিতে রয়েছেন, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং নতুন জনবল নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া।

লস অ্যাঞ্জেলেস সফরের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘রকেট ল্যাব’ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি তিনি সামরিক ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বোয়িং ৭৪৭–২০০ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ই–৪বি বিমানটি সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট তীব্র তাপ ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস সহ্য করতে সক্ষম। ভেতরে রয়েছে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, অপারেশন কন্ট্রোল রুম এবং কমান্ড সুবিধা, যা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এই বিমানের আরেকটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো, আকাশেই জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে এটি একটানা কয়েক দিন উড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বহরে এ ধরনের মাত্র চারটি বিমান রয়েছে, যেগুলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায় সংরক্ষিত।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই বিমানের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট আটক সংক্রান্ত ঘটনা এবং ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ‘ডুমসডে প্লেন’ ব্যবহারের বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—সাধারণ সরকারি বিমানের পরিবর্তে কেন এত বছর পর এই ব্যয়বহুল ও অতিসুরক্ষিত বিমানটি ব্যবহার করা হলো।

পেন্টাগন সফরটিকে স্বাভাবিক ও পূর্বনির্ধারিত বললেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও দেয়নি—কেন ঠিক এই বিশেষ বিমানই বেছে নেওয়া হলো। এই ব্যাখ্যার অভাবই সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে অনেকের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বিশ্ব কি তবে সত্যিই কোনো ভয়াবহ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে