ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সুদ কমানো নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১০:২১:১৩
সুদ কমানো নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুদের হার কমানো কোনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সুদের হার কমানো নিয়ে অনেক সময় সহজ সমাধানের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে একদিকে সুদ কমালে অন্যদিকে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ট্রেজারি বিল, ব্যাংকিং খাত ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না রেখে সুদের হার কমালে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি বিলের সুদহার ইতোমধ্যে কমেছে এবং এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে প্রতিফলিত হবে। তবে ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ানো হলে ব্যাংকে আমানত রাখার প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতের মূল কাজ হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ব্যাংকিং অ্যালমানাক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরাসরি বিনিয়োগ নির্দেশনা না দিলেও ব্যাংক খাত বিশ্লেষণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সোর্স। এতে পেইড-আপ ক্যাপিটাল, অথরাইজড ক্যাপিটাল, ক্যাপিটাল রেশিও, প্রভিশনিং, রিটেইন্ড আর্নিংস ও ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোজিত রয়েছে।

তিনি জানান, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় খাতটি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে কিছু ব্যাংকের প্রভিশনিং ও ঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ব্যাংকিং অ্যালমানাকে প্রতিফলিত হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সবসময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি। তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশকে হুবহু সিঙ্গাপুরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো নয়, বরং ধৈর্য, সম্মিলিত চেষ্টা ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। জনপ্রিয়তার চাপে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নীতিনির্ধারণ করতে হয়। নীতিনির্ধারণে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়, তবে লক্ষ্য থাকতে হবে পুরো দেশের কল্যাণ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে