ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ইসলামী ব্যাংকিং-কে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২০:৩২:২২
ইসলামী ব্যাংকিং-কে ঢেলে সাজানোর মাস্টারপ্ল্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকিং কেবল ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অফ বাংলাদেশ এবং ঢাবির ফিন্যান্স বিভাগ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং কনফারেন্স’-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই খাতের আরও বৈপ্লবিক প্রসার ঘটবে।

গভর্নর উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শরীয়াহ-ভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে থাকলেও সেই অনুপাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্র বা সুযোগ তৈরি হয়নি। পর্যাপ্ত বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় এই ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোকে স্বস্তি দিতে একটি শক্তিশালী শরীয়াহ-ভিত্তিক বন্ড বা ‘সুকুক’ মার্কেট গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সুকুক মার্কেট চালু হলে একদিকে সরকারের অর্থায়নের খরচ কমবে, অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কেটে পুরো খাত আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

তাত্ত্বিকভাবে ইসলামী ব্যাংকিংকে সবচেয়ে নিরাপদ ঋণ ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করে আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরাসরি সম্পদ ও আয়ের সাথে যুক্ত থাকায় এতে ঝুঁকি কম থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দখলদারিত্বের কারণে এই খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে সাধারণ আমানতকারীরা বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, শরীয়াহ বোর্ড এবং আমানতকারীসব পক্ষকেই দায়ী করেন। বিশেষ করে আমানতকারীরা তাদের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তা নিয়ে আগে কখনো প্রশ্ন তোলেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে গভর্নর জানান, ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে এবং দেশের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। তিনি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যে, ভবিষ্যতে দেশে অন্তত দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হবে, যারা সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে একটি নতুন ‘ইসলামী ব্যাংকিং আইন’ প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

শরীয়াহ বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে ড. মনসুর বলেন, বোর্ড সদস্যদের আরও শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে; চাকরির ভয়ে অনিয়মের সাথে আপস করা যাবে না। বেক্সিমকো সুকুক বন্ডের মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বন্ড বিক্রির কারণে এই বাজারের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তবে সরকার নতুন করে পরিচ্ছন্ন সুকুক বন্ড বাজারে আনার কাজ শুরু করেছে। সবশেষে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের আর্থিক লুটপাট হতে দেওয়া হবে না এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে