ঢাকা, রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যে কারণে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৫:০০:৩৪
যে কারণে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের দখল রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, “দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে, ইজারা যথেষ্ট নয়। আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এটি ‘সহজ উপায়ে’ বা ‘কঠিন উপায়ে’ যেকোনোভাবে করব।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসন ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবে জোরপূর্বক সংযুক্ত করার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়নি। যদিও ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড আগেই জানিয়েছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেটো বা ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের সমাপ্তি ঘটাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ডেনমার্ক।

গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মধ্যে অত্যন্ত কৌশলগত। এখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পূর্ব সতর্কতা ব্যবস্থা এবং জাহাজ পর্যবেক্ষণ সুবিধা রয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ বলে ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দ্বীপটি রাশিয়ান ও চীনা জাহাজ দ্বারা ঘিরে আছে, যদিও প্রমাণ দেননি।

উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে পিটুফিক ঘাঁটিতে একশ’রও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছেন। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরও সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে। তবে ট্রাম্প বলেন, “একটি ইজারা চুক্তি যথেষ্ট নয়, দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে।” তিনি যুক্তি দিয়েছেন, চীন ও রাশিয়ার মানুষ ভালো, কিন্তু তাদের গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবেশী হিসেবে চান না।

ইতোমধ্যেই ডেনমার্ক, ন্যাটো ও ইউরোপীয় দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বলেছে, “শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা রক্ষার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ—যেমন বিরল মৃত্তিকা খনিজ, ইউরেনিয়াম, লোহা, তেল ও গ্যাস—ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলায় খনিজ আহরণও সহজ হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দ্বীপের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

শেষে, গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় নেতারা সতর্ক করেছেন, “আমরা আমেরিকান বা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী। আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদেরই ঠিক করতে হবে।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে