ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড ‘আমার’ দরকার

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:৩২:৩২
রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড ‘আমার’ দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করা থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ভূখণ্ডের মালিকানা প্রয়োজন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “কোনো ভূখণ্ড রক্ষা করতে হলে তার মালিক হতে হয়। শুধু ইজারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সহজ উপায়ে অথবা কঠিন উপায়ে করা হবে।” হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি কেনার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।

তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্কের মতে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও, উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা স্থাপন এবং আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক। কোনো প্রমাণ না দেখিয়েই তিনি বলেছেন, অঞ্চলটির আশপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক সামরিক ঘাঁটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে আরও সেনা মোতায়েন করতে পারে।

তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইজারা চুক্তি যথেষ্ট নয়। মালিকানা থাকতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি, রাশিয়ার জনগণকেও ভালোবাসি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে আমি তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না। এটা হবে না। ন্যাটোকেও বিষয়টি বুঝতে হবে।”

ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা—ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ—এই সপ্তাহে ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া অন্য কেউ তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

মিত্র দেশগুলো বলেছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও আগ্রহী। তবে তা মিত্রদের মধ্যে সমষ্টিগতভাবে, যুক্তরাষ্ট্রসহ সবাইকে নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তারা জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা—সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অগ্রাহ্যযোগ্যতা—সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালে নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তখনও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্কের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ—বিশেষ করে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম ও লোহা—নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার সহজ হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুতও থাকতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে