×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হয়েছে? ঘরে বসেই যেভাবে পরীক্ষা করবেন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:১৭:২১
দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হয়েছে? ঘরে বসেই যেভাবে পরীক্ষা করবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুধ শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকাতেও দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের চাহিদা রয়েছে। তবে দুধে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দুধের ঘনত্ব, রং বা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অনুপযুক্ত উপাদান মেশানো হলে তা ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দুধে ভেজাল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ডিটারজেন্ট বা সাবানজাতীয় পদার্থের ব্যবহার নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়। দুধের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে এসব পদার্থ ব্যবহার করা হলে তা খাবার হিসেবে গ্রহণের উপযোগিতা নষ্ট করতে পারে। তাই দুধ কেনার ক্ষেত্রে উৎস, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং প্যাকেটজাত পণ্যের তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

দুধে ডিটারজেন্ট বা সাবানজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে একটি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষা করার কথা জানিয়েছে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। পরীক্ষাটির জন্য একটি পরিষ্কার কাঁচের গ্লাসে অল্প পরিমাণ দুধ নিতে হবে। এরপর গ্লাসটি কয়েক সেকেন্ড জোরে ঝাঁকাতে হবে। দুধে অস্বাভাবিকভাবে ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী ফেনা তৈরি হলে সেটিকে সন্দেহের একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে শুধু এই পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে দুধে ডিটারজেন্ট বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পদার্থ রয়েছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দুধের স্বাভাবিক উপাদান ও নড়াচড়ার কারণেও কিছু ফেনা তৈরি হতে পারে। কোনো পণ্যে ভেজালের সন্দেহ থাকলে নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানোই নিশ্চিত হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়।

প্যাকেটজাত দুধ কেনার সময়ও কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা জরুরি। প্যাকেটের সিল অক্ষত আছে কি না, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, সংরক্ষণের নির্দেশনা, উপাদানের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য দেখে পণ্য কেনা উচিত। প্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত, ফুলে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দেখালে তা না কেনাই নিরাপদ।

দুধের ক্ষেত্রে সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুধ দ্রুত নষ্ট হতে পারে এবং যথাযথভাবে ঠান্ডা না রাখলে জীবাণুর সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই প্যাকেটের সংরক্ষণ নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্যাকেট খোলার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু পরীক্ষা প্রাথমিক সতর্কতার জন্য কাজে লাগতে পারে। তবে এসব পরীক্ষাকে বৈজ্ঞানিকভাবে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। সন্দেহজনক দুধ পান না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা খাদ্য পরীক্ষার সুবিধার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।

পরিবারের শিশুদের জন্য দুধ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে দুধ কেনা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং প্যাকেটজাত দুধের লেবেল ও মেয়াদ যাচাই করার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। দুধে অস্বাভাবিক গন্ধ, রং, স্বাদ বা গঠন দেখা গেলে সেটি গ্রহণ না করাই ভালো।

সচেতনতার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরীক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদক ও বিক্রেতাদেরও খাদ্যনিরাপত্তার নিয়ম মেনে দুধ বাজারজাত করতে হবে। কারণ দুধের মতো বহুল ব্যবহৃত খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে