×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইপিও নিয়ে বড় ঘোষণা বিএসইসির, আসছে ডাইরেক্ট লিস্টিংও

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৩:৩৫:৫২
আইপিও নিয়ে বড় ঘোষণা বিএসইসির, আসছে ডাইরেক্ট লিস্টিংও

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চান, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Public Offer of Equity Securities) Rules, 2025’ অনুযায়ী আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেসব কোম্পানি ইতোমধ্যে আইপিওর জন্য আবেদন করেছে কিংবা আবেদন করতে আগ্রহী, তাদের বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আইপিও-সংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা আনা হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোকেও সেই সুবিধার আওতায় আনা হবে। তাই ভবিষ্যতে নিয়ম পরিবর্তনের সম্ভাবনার কারণে কোনো কোম্পানির আইপিও আবেদন স্থগিত বা বিলম্বিত করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে, নতুন মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজন নেই—এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের একটি কাঠামো তৈরি করছে বিএসইসি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোম্পানি নিজে নতুন শেয়ার ইস্যু করবে না এবং জনসাধারণের কাছ থেকেও নতুন মূলধন সংগ্রহ করবে না। বরং কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে বিএসইসি ইতোমধ্যে ‘Bangladesh Securities and Exchange Commission (Direct Listing of Securities on the Stock Exchange) Rules, 2026’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। খসড়াটি জনমত আহ্বানের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে।

কমিশনের মতে, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নতুন ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির বিদ্যমান শেয়ারধারীদের শেয়ার অফলোডের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালা খুব শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। তাই যেসব কোম্পানি প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে কমিশন।

বিএসইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোম্পানির প্রয়োজনের ধরন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। যেসব কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ বা পরিচালনার জন্য নতুন মূলধন প্রয়োজন, তারা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু বিদ্যমান শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী, তাদের জন্য ডাইরেক্ট লিস্টিং একটি সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে।

কমিশন বলছে, কোম্পানিগুলোর বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও সক্ষম কোম্পানির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বাজারকে আরও গভীর ও বৈচিত্র্যময় করা এবং স্বচ্ছ ও কার্যকর শেয়ারবাজার গড়ে তুলতে নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বিএসইসি।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে