×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খতিয়ানের মাধ্যমে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১২:০১:৪১
খতিয়ানের মাধ্যমে জমির মালিকানা বের করার নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা কিংবা কোনো জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে খতিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। তবে শুধু খতিয়ানে কারও নাম রয়েছে দেখেই জমিটির মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায় না। জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, রেজিস্ট্রি দলিল, নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য—সবকিছু মিলিয়ে যাচাই করলেই মালিকানা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

প্রথমে দেখতে হবে খতিয়ানটি কোন ধরনের। জমির রেকর্ডে সাধারণত CS, SA, RS, BS বা সিটি জরিপ এবং নামজারি খতিয়ানের মতো বিভিন্ন ধরনের রেকর্ড থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বরে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই পুরোনো ও সর্বশেষ রেকর্ডের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

খতিয়ানে মালিকের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, ঠিকানা এবং মালিকানার অংশ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। একই জমির একাধিক মালিক থাকলে প্রত্যেকের অংশ কতটুকু, সেটিও খতিয়ান থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বর, জমির মোট পরিমাণ এবং জমির শ্রেণি বাস্তব জমির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমান মালিক কীভাবে জমিটির মালিক হয়েছেন, তা যাচাই করা। জমিটি ক্রয়, উত্তরাধিকার, দান, হেবা, বন্দোবস্ত কিংবা আদালতের আদেশের মাধ্যমে পাওয়া হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট নথি থেকে তা নিশ্চিত করতে হবে। মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের মালিকের সঙ্গে বর্তমান মালিকের যোগসূত্রও খুঁজে দেখা জরুরি।

জমি কেনার ক্ষেত্রে শুধু খতিয়ানের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্যও পরীক্ষা করতে হবে। দলিলে উল্লেখিত দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং বিক্রেতার মালিকানার তথ্য খতিয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট দলিলের সার্টিফায়েড কপিও সংগ্রহ করা ভালো।

জমির মালিকানা পরিবর্তনের পর সর্বশেষ নামজারি হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ জমি ক্রয় করলে বা উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে মালিকানা হালনাগাদ করা হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে। সর্বশেষ নামজারি খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে রেজিস্ট্রি দলিল ও অন্যান্য রেকর্ড মিলিয়ে দেখা নিরাপদ।

এ ছাড়া সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা হোল্ডিং-সংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা যেতে পারে। তবে শুধু ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা দেখেই জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এটিকে খতিয়ান, দলিল ও নামজারির অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ধরা যাক, পুরোনো খতিয়ানে রহিমের নাম রয়েছে। পরে রহিম ওই জমি করিমের কাছে বিক্রি করেছেন। সে ক্ষেত্রে শুধু রহিমের নামে থাকা পুরোনো খতিয়ান দেখে করিমই বর্তমান মালিক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে রহিমের মালিকানার রেকর্ড, রহিমের কাছ থেকে করিমের নামে করা ক্রয় দলিল, করিমের নামজারি খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য ধারাবাহিকভাবে যাচাই করতে হবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে