×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের বড় চমক, অংক দেখে অবাক ভারত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৫:৪১:১৫
বাংলাদেশের বড় চমক, অংক দেখে অবাক ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের তুলনামূলক আলোচনা সামনে আসে। দুই দেশের অর্থনীতির আকার, শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি, প্রবাসী আয়, কর্মসংস্থান ও মাথাপিছু আয়ের মতো বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্প ও প্রবাসী আয়ের বড় ভূমিকা থাকায় দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামো ভারতের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন।

অর্থনীতির সামগ্রিক আকারের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বড়। ভারতের অর্থনীতিতে ভারী শিল্প, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, গাড়ি, ইস্পাতসহ বিভিন্ন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই শিল্পে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে খাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় শক্তি হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান। এই অর্থের বড় অংশ সরাসরি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায় এবং তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় হয়। ফলে রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অবদান রাখে না, অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতিতে শিল্প ও সেবা খাতের পাশাপাশি বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি এবং সেবা খাতও যুক্ত। ফলে দুই দেশের অর্থনীতির তুলনা করতে হলে শুধু মোট জিডিপি দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথেষ্ট নয়; কোন খাতে কত মানুষ কাজ করছেন এবং সেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর শ্রমনির্ভরতা। বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এই খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি পরিবহন, প্যাকেজিং, সুতা, কাপড়, আনুষঙ্গিক পণ্যসহ বিভিন্ন খাতও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে একটি শিল্পের বিকাশের প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে অর্থনীতির সক্ষমতা বিচার করার ক্ষেত্রে ভারতের বড় শিল্পভিত্তি এবং বাংলাদেশের শ্রমনির্ভর শিল্পভিত্তিকে সরাসরি এক পাল্লায় মাপা যায় না। দুই দেশের জনসংখ্যা, বাজারের আকার, শিল্প কাঠামো, প্রাকৃতিক সম্পদ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি কাঠামোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। একইভাবে কোনো একটি সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত অনেক এগিয়ে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় রপ্তানি, রেমিট্যান্স, উৎপাদনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ‘বাংলাদেশের বড় চমক’ বলতে কোনো একক পরিসংখ্যানের পরিবর্তে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের পরিবর্তন ও সক্ষমতার বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে, একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতি বুঝতে মোট জিডিপির পাশাপাশি মাথাপিছু আয়, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, বৈদেশিক বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান—সবগুলো সূচক একসঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক পার্থক্য এবং পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে