×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনালী ব্যাংকের ঋণ কমতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বড় পরিবর্তন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ০৯:০৯:৩৬
সোনালী ব্যাংকের ঋণ কমতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতি দেখা দেওয়ায় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কমেছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশে। একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সোনালী ব্যাংক। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণস্থিতি কমেছে ৩ হাজার ৫৭২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি ছিল ৯০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৮২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি কমেছে ৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকটি নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে পুরোনো ঋণ আদায়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি আমানতের বড় একটি অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে ঋণ আদায়ের তুলনায় নতুন ঋণ বিতরণ কম হওয়ায় ব্যাংকটির মোট ঋণস্থিতি কমে গেছে।

ঋণ বিতরণ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় গত ১৩ জুলাই সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ঋণস্থিতিও জুন প্রান্তিকে ৫২৯ কোটি টাকা কমেছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ খেলাপি হওয়ায় নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং ঋণ আদায়ে জটিলতা রয়েছে।

অন্যদিকে একই সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণস্থিতি ৮৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ১২ কোটি টাকা এবং বিডিবিএলের ২৭ কোটি টাকা বেড়েছে।

শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক হয়েছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ। তবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। বেসরকারি ব্যাংকে এ প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে আর্থিক চাপে রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে, আবার যেসব ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তারাও খেলাপি ঋণের ঝুঁকির কারণে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি কমে যাওয়ার পেছনে ঋণ আদায়ে বাড়তি গুরুত্ব, নতুন ঋণ বিতরণে সতর্কতা, খেলাপি ঋণের চাপ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে জ্বালানি সংকটজনিত ধীরগতির প্রভাব রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ আবার বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে