×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়া বা সেলিম নয় এবার হাসিনার আস্থার পাত্র যিনি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১১:০৪:৪৫
মায়া বা সেলিম নয় এবার হাসিনার আস্থার পাত্র যিনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের কথা সামনে এসেছে। বৈঠকে দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এই বৈঠককে ঘিরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টি। দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ, সময় ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে মতবিনিময় হতে পারে। তবে দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।

এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। অনেক নেতাকর্মী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলকে নতুন করে সংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, পুরোনো নেতৃত্বের পাশাপাশি বর্তমানে শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছেন এমন কয়েকজন নেতার ভূমিকা সামনে আসতে পারে। এতদিন মায়া চৌধুরী, আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাহাঙ্গীর কবির নানক কিংবা বাহাউদ্দিন নাছিমের মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম আলোচনায় থাকলেও এবার দলের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলে অন্য একজন ঘনিষ্ঠ নেতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কে শেখ হাসিনার সঙ্গে সমন্বয় করবেন, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনে কার ভূমিকা বেশি থাকবে এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে বাড়ানো হবে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ কারণে বৈঠকটি শুধু নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠক নয়, বরং দলের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জানা গেছে, দিল্লি ও কলকাতার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রায় ২১ জন নেতা বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। বৈঠকে দলের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষ্ক্রিয় ইউনিটগুলো পুনর্গঠন, নতুন কমিটি গঠন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টিও এসব সাংগঠনিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আকাশপথ, স্থলপথ কিংবা অন্য কোনো পথ ব্যবহারের বিষয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সেটিকে এখন পর্যন্ত দলীয় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—দলের নেতৃত্ব কীভাবে পুনর্গঠিত হবে এবং শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভূমিকার সঙ্গে সেই সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয় কীভাবে করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো নতুন দিকনির্দেশনা আসে কি না, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।

সব মিলিয়ে, মায়া বা সেলিমের মতো পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়কারী অন্য কোনো নেতার ভূমিকা সামনে আসে কি না, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে শেখ হাসিনার ‘আস্থার পাত্র’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার মতো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে