ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

দ্বিগুণ দামে জমি ক্রয়, প্রশ্নের মুখে সিটি ব্যাংক

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৭:০৪:৫৩
দ্বিগুণ দামে জমি ক্রয়, প্রশ্নের মুখে সিটি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারদরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে জমি কিনে রাজধানীর গুলশানে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে সিটি ব্যাংককে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও দুর্নীতির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে। গ্রাহকদের আমানত থেকেই বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় ব্যাংকের ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মুনাফায়। এতে করে ব্যাংকের শেয়ারবাজারে থাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে মুনাফা কমে গেলে সরকারের প্রাপ্য কর আদায়ও হ্রাস পাবে, ফলে রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হবে। এমন বাস্তবতায় ব্যাংকটির নেওয়া সিদ্ধান্তকে অনেকেই হটকারী ও অদূরদর্শী বলে অভিহিত করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য সিটি ব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে। আগে থেকেই থাকা ২০ কাঠা জমির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আরও ২০ কাঠা জমি কেনা হচ্ছে। নতুন জমি কেনা ও সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা। তবে বাজারমূল্যের তুলনায় জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কেনা হচ্ছে, সেখানে প্রতি কাঠার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় জমির প্রকৃত মূল্য এত বেশি হওয়ার কথা নয়। জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও বলছেন, এত উচ্চমূল্যে লেনদেন হলে আশপাশের জমি ও ভবনের বাজারে অস্বাভাবিক প্রভাব পড়তে পারে। এ অবস্থায় সিটি ব্যাংক কেন এত বেশি দামে জমি কিনছে—তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউ এলাকায় বর্তমানে প্রতি কাঠা বাণিজ্যিক জমি গড়ে ৮ কোটি টাকার আশপাশে কেনাবেচা হচ্ছে। অথচ সেখানে সিটি ব্যাংক প্রতি কাঠা জমি কিনছে ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়, যা বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে জমি কেনা হলে সেখানে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকে। বিক্রেতা প্রকৃতপক্ষে অর্থ পেয়েছেন কি না, জমির ন্যায্য মূল্য কত হওয়া উচিত এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।

সূত্র মতে, আগের ২০ কাঠা ও নতুন ২০ কাঠা জমিসহ মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেছে।

গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও অতিরিক্ত ২০ কাঠা জমি কেনার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

১৯৮৩ সালে দেশের ১২ জন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে সিটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংকটি। গুলশান-২ সংলগ্ন গুলশান এভিনিউয়ের ২০ কাঠা জমির ওপর আটতলা ভবনে প্রধান কার্যালয় থাকলেও জায়গার সংকটে সেটি ভেঙে নতুন ২৮ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়ায় সিটি ব্যাংকের এত বড় অঙ্কের জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং শেয়ারদরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ব্যাংকটি বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তবুও প্রশ্ন রয়ে গেছে—অপচয়ের কারণে মুনাফা কমলে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কি না।

ব্যাংক সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার অনুমোদন দেয়। এরপর সর্বশেষ পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। একই সঙ্গে রাজউক থেকেও ২৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের পাঁচ তলা ব্যবহার করা হবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলায় সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জমির পরিমাণ বাড়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে