ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ঋণনির্ভর ব্যবসা ও অনিয়মের চাপে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো

২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ২৩:২০:১০
ঋণনির্ভর ব্যবসা ও অনিয়মের চাপে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবসা কার্যক্রম ক্রমেই ঋণনির্ভর হয়ে উঠছে, যা কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয়ের বড় অংশ এখন সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে, যার চাপ সামাল দিতে গিয়ে কোম্পানিকে গুনতে হচ্ছে ধারাবাহিক লোকসান।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত নিরীক্ষকের মতামতে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর আর্থিক ঝুঁকির দিকগুলো স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

নিরীক্ষকের ভাষ্যমতে, কোম্পানিটির চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা মূলত স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়লে তা কোম্পানির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনিতেই প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সুদজনিত ব্যয় হওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রোর মোট ঋণের পরিমাণ (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে) দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এই অঙ্কটি কোম্পানির মোট ইক্যুইটি বা নিট সম্পদের প্রায় ৭৩ শতাংশের সমান। একই অর্থবছরে ওই ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ। নিরীক্ষকের মতে, এই মাত্রার সুদ ব্যয় কোম্পানির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে শ্রমিকদের পাওনা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৩২ ধারা অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার নয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) অর্থ বিতরণ বাধ্যতামূলক। তবে গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ২০১৮–১৯ অর্থবছর থেকে এ তহবিলের অর্থ কর্মীদের মধ্যে বিতরণ না করে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বলে উল্লেখ করেছেন নিরীক্ষক।

নিরীক্ষকের হিসাব অনুযায়ী, ডব্লিউপিপিএফ খাতে শ্রমিকদের মোট প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আটকে থাকায় কোম্পানিটির শ্রম আইন পরিপালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া কোম্পানিটির কাছে ৪৭ লাখ টাকার অবণ্টিত ডিভিডেন্ড রয়েছে বলেও জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এর মধ্যে ২০১৭–১৮ থেকে ২০২১–২২ অর্থবছরের ৪২ লাখ টাকা তিন বছরের বেশি সময় ধরে অবণ্টিত অবস্থায় রয়েছে। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সময়সীমা অতিক্রান্ত ডিভিডেন্ড ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) স্থানান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।

উল্লেখ্য, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৩ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৬৯.৫৮ শতাংশ।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে