ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

অস্তিত্বহীন সম্পদের ঝুঁকিতে ইন্দো-বাংলা ফার্মা

২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৬:৩৯:১২
অস্তিত্বহীন সম্পদের ঝুঁকিতে ইন্দো-বাংলা ফার্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ‘ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড’-এর ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর বিভিন্ন গুরুতর অনিয়ম ও আপত্তির কথা জানিয়েছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। নিরীক্ষক তার প্রতিবেদনে কোম্পানিটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বা ‘গোয়িং কনসার্ন’ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

নিরীক্ষকের মতে, কোম্পানিটির ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ‘ক্যাপিটাল ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’-এর স্বপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা দলিল উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মজুত পণ্যের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ‘Calfresh - M Tablet’ নামক পণ্যের ৩৭ হাজার ৫০ ইউনিটের মজুত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, উৎপাদনাধীন পণ্যের হিসাব কোনো রেজিস্টারের পরিবর্তে কেবল এক্সেল শিটে রাখা হয়েছে এবং কাঁচামাল ও ফিনিশড গুডসের সঠিক ব্যয় নির্ধারণের তথ্য অডিটরকে দেওয়া হয়নি।

আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অমিল খুঁজে পেয়েছেন নিরীক্ষক। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির মোট বিক্রয় দেখানো হয়েছে ২১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, কিন্তু ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। এই ৬ কোটি টাকার বেশি ব্যবধানের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোম্পানি দিতে পারেনি। এছাড়া ৪৩ লাখ টাকার বেশি ‘ক্যাশ অ্যান্ড ক্যাশ ইক্যুইভ্যালেন্ট’ এর বিপরীতে কোনো ব্যাংক বই বা রেজিস্টার যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়নি।

কোম্পানিটির করপোরেট সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আরও কিছু গুরুতর তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত দুই অর্থবছরে (২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫) কোম্পানিটি যথাক্রমে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ এবং ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা লোকসান গুনেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও অনিষ্পন্ন বা অদাবিকৃত ডিভিডেন্ড নির্দিষ্ট ফান্ডে স্থানান্তর করেনি ইন্দো-বাংলা ফার্মা।

নিরীক্ষক ড. আশরাফুল হক এফসিএ তার প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তথ্যের অপর্যাপ্ততা এবং পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় কোম্পানিটি ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মূলত হিসাব সংরক্ষণে পেশাদারিত্বের অভাব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা ও আইএএস-২ এর সঠিক পরিপালন না হওয়ায় ইন্দো-বাংলা ফার্মার এই আর্থিক প্রতিবেদনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে