ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে সরকারের সবুজ সংকেত

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৯:৪৪:১৮
সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে সরকারের সবুজ সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে গভীরতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের অংশীদারত্ব থাকা বহুজাতিক ব্লুচিপ কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সরাসরি তালিকাভুক্তির পথে এগোবে এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজ নিজ বোর্ড সভায় শেয়ারবাজারে আসার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের পাশাপাশি বাণিজ্য উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা, শিল্প উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (অর্থ মন্ত্রণালয়) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইসিবির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানও বৈঠকে অংশ নেন।

শেয়ারবাজারে আনার জন্য আলোচনায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্ণফুলি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার এখন মোটামুটি আইনের কাঠামোর মধ্যে এসেছে। এ অবস্থায় বাজারের গভীরতা বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই মৌলভিত্তি শক্তিশালী সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে সরকারের শেয়ার থাকলেও এখনো সেগুলো তালিকাভুক্ত নয়। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বোর্ড সভায় নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগেও এ ধরনের আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এবার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে এবং শিল্প মন্ত্রণালয় থেকেও শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে চিঠি পাওয়া গেছে।

কোম্পানিগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানি আইন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বৈঠক শেষে আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকার বিষয়টিকে জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। তার ভাষায়, জনস্বার্থের চেয়ে বড় কোনো স্বার্থ নেই। নেসলে বা ইউনিলিভারের মতো কোম্পানি যদি ভারত, পাকিস্তান বা থাইল্যান্ডে তালিকাভুক্ত হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে সমস্যার কোনো যুক্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে এসব কোম্পানিকে কর ছাড়সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। তবে তারা যদি তালিকাভুক্ত হতে না চায়, তাহলে কর বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিতে হবে। তা না হলে বাজারকে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি জানান, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তার মতে, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই।

ইউনিলিভার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারের প্রায় ৪০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে সামান্য অংশও বাজারে ছাড়তে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বিদেশি বোর্ড সভার অনুমতির বিষয়টি বারবার সামনে আসছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে